সোমবার, ১৫ Jul ২০২৪, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

চন্দ্রাবতীর প্রেম ও বিরহ

চন্দ্রাবতীর প্রেম ও বিরহ

লোক সাহিত্যিক ড: দীনেশ চন্ত্র সেনের মতে, ঘোড়শ শতাব্দীর মধ্য ভাগে বাঙাল লোক সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি শ্রীমতী চন্দ্রাবতী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের পাতুয়াইর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চন্দ্রবতীর শুধুই বাঙালা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কব্ িএ প্রসঙ্গে রূপলেখা শীর্ষক গ্রন্থে উল্লেখ করেন “বাঙলার প্রথম স্ত্রী কবি খ্যাতির জন্য চন্দ্রাবতীর তথাপি নমস্য”। সাহিত্য ও কাব্য চর্চায় অনুরাগি দরিদ্র পরিবারের সন্তান চন্দ্রাবতীর জীবন, প্রেমবিরহ ও কাব্য রচনা প্রভূতি এক ট্রাজিটিক রূপ ধারণ করেন।
কবি চন্দ্রাবতীর পিতা দ্বিজ বংশী দাস ছিলেন “মনসা মঙ্গল” কাব্যের রচয়িতা। চারণ কবি দ্বিজ বংশী দাস নিজেই গান রচনা করতেন এবং গ্রামে গ্রামে সেই গান গেয়ে বেড়াতেন। এই ছিল তার নেশা ও পেশা। কবি চন্দ্রাবতীর রক্ত¯্রােতে ছিল পিতার মতো কাব্য প্রতিভা। তাঁর অনবদ্য বৈচিত্র্যময় সৃস্টিকর্মের মধ্যে দস্যু-কেনারামের পালা, মলুয়াম মেয়েলি গীত প্রভূতি উল্লেখযোগ্য। দরিদ্রক্লিষ্ট পরিবারের সন্তান চন্দ্রাবতীর জীবন ছিল দুঃখময় ও বিরহের আগুনে পোড়া এক ললাট। যৌবনের রঙীন দিন গুলোতে তার জীবনে নেমে আসে এক রোমান্টিক ঝড়। পার্শ্ববার্তী গ্রামের ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে জয়ানন্দের সাথে ভালোবাসা তাঁর জীবনের ট্রাজিক রূপ দান করে।
প্রেমের প্রাপ্তিলগ্নে বিয়ের দিন-তারিখ নির্দিষ্ট হবার পর চন্দ্রাবতী জানতে পারলেন-জয়ানন্দ অপর এক মুসমান রমনীকে পূর্বেই বিয়ে করেছে।
জয়ানন্দের কাছ থেকে অনাকাঙ্কিত আঘাত পেয়ে চন্দ্রাবতী মুষড়ে পড়েন, কিন্তে ভেঙ্গে পড়েন নি, বরং জীবনের বিরহ বেদনাকে ভূলে থাকার জন্য ফুলেশ্বরী নদরি তীরে এক নিভূত শিবমন্দির {যা আজও ধ্বংসাশেষ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে} ধর্ম সাধানায় ব্রতীহন এবং ‘রামায়ন’ রচনায় মনোনিবেশ করেন।
অন্য দিকে কিছু কাল পর অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে জয়ানন্দ পুণ:রায় চন্দ্রাবতীর দর্শন প্রার্থনা করেন। এ প্রসঙ্গে পালাগানে উল্লেখ আছে-দ্বারখোল চন্দ্রাবতী, তোমাকে শুধাই, জীবনের শেষ তোমায় একবার দেখে যাই।
কিন্তু অভিমানী চন্দ্রাবতী জয়ানন্দকে দর্শন দিনে অপারগতা প্রকাশ করে। দুঃখে ও অভিমানে জয়ানন্দ মন্দিরের অদূরেই খর¯্রােতা ফুলেশ্বরী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই অপ্রত্যাশিত আঘাতে চন্দ্রাবতী শোকে পাথরের মানবীতে পরিণত হয়ে যায়। অসমাপ্ত রয়ে গেলে তাঁর ‘রামায়ন’ রচনা। কবি চন্দ্রাবতী তার এই করুন ট্রাজিক জীবনের জন্য নিজেই হয়ে গেলেন লোক কাব্যের এক অন্যতম নায়িকা এবং ‘চন্দ্রাবতী গীতিকাব্যটি’তে তাঁর বলিষ্ঠ প্রমাণ মেলে। তাইতো বোধ হয়, এই জনপদের মানুষের কাছে আজও সে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে রয়েছেন।

শাফায়েত জামিল রাজীব
সম্পাদক
একুশে টাইমস্ এন্ড নিউজ মিডিয়া

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana