সোমবার, ১৫ Jul ২০২৪, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

জানিনা জীবনের শেষ প্রান্তে ভাগ্যে কি ঘটে

জানিনা জীবনের শেষ প্রান্তে ভাগ্যে কি ঘটে

মোঃ মাইন উদ্দিন : বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হয়নি অনেকদিন। কিন্তু কেন বের হয়নি, কি হয়েছে আমার, কোন অসুখ বিসুখ কি না অগণিত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, হিতাকাঙ্ক্ষী, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী, রাজনৈতিক ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশায় অগণিত চেনা মানুষ থাকার পরও অনেকে খোঁজ খবর নেয়নি। তবে এর কিছু কারণও আছে। কারণগুলোর মধ্যে- আমিও অপ্রয়োজনে কাউকে হাই হ্যালো করি না, কারো পিছনে ছুটাছুটি করি না, আমার প্রতি যারা টান নেই তার মনের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করি না, কাউকে মাথায় তুলে নাচা-নাচি করি না, অযোগ্যকে আসমানে উঠানোর চেষ্টা করি না, মিথ্যা অভিনয় করে কাউকে হাসায় না, কাঁদায়ও না, আমি কেবল আমার মেধা, যোগ্যতা ও বয়স অনুযায়ী চলার চেষ্টা করি। কারণ, এখন বয়স বাড়ছে, চারপাশে যাদের দেখি এদের অনেকেই বয়সে আমার থেকে ছোট। কাজেই আমি এখন যা কিছুই করি, বা করতে চাই, তা বয়স বিবেচনা করেই করতে হয়, বা হবে। অর্থাৎ বয়সই আমার প্রতিবন্ধকতা। এই বয়সে যার তার পিছনে ছুটাছুটি করা, যার তার চামচামি করা, যার তার তোষামোদি করা মোটেও সম্ভব না। এছাড়াও ছেলে দুটি বড় হয়েছে, বড় ছেলে নর্থ সাইপ্রাসে থাকে প্রায় ৬ বছর। ছোট ছেলেটাও কোন একটা দেশে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। ওরা আমার হাবিজাবি চলাফেরা চায় না, তারা চায় আমি সারাদিন বাড়িতে থাকি, সংবাদের পিছনে না ছুটি, সাংবাদিকতা না করি, রাজনীতিতে না জড়ায়, একা একা যেন থাকি। আসলে এভাবে কি থাকা যায়? তারা তো পোলাপান, পোলাপান মানুষ আর কতোটা বুঝেই, তারা বড় হলেও তো আমার জন্য পোলাপান। তারা কি আর বুঝে একা থাকাটা যে আমার জন্য কত কষ্টের হবে? নিশ্চয় বুঝে না। ক’দিন আগে বড় ছেলে দেশে এসেছিল। ছুটি শেষ হওয়ার আগে ঢাকায় অবস্থিত তুরস্কের দূতাবাসে বাসে যাওয়ার সময় পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় পকেটমার। এই ঘটনায় ছেলেটা মনে খুব কষ্ট পায়। পরে সে যাবার সময় বলে গেল মা-বাবা দু’জনকেই নিয়ে যাবে ওর কাছে। বুজলাম নিয়ে যাবে, সেই দেশ হয়তো ওর কাছে ভালো, সে দেশের মানুষ ভালো, পকেটমার নেই, চোর ডাকাত নেই, টাউট বাটপার নেই, সুদ ঘুষ বানিজ্য নেই, গ্রাম্য সালিশ নেই, চামচামি নেই, তোষামোদি নেই, পদলেহন নেই, দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই, দুর্নীতি নেই, কিন্তু সে দেশে আমি কার সাথে বসবো? কাদের নিয়ে চা খাবো? আমার দেশে তো সাথে বসে চা খাওয়ার মানুষের অভাব নেই। তারা আমার খোঁজ খবর নিক বা না নিক, ভালো হোক আর মন্দ হোক চারপাশে তো তাদেরকে দেখি, তারা আমার ভাষা বুঝে, আমাকে বুঝে, আমিও তাদের ভাষা বুঝি, সুখ দুঃখ বুঝি কিন্তু সেখানে তো আমাকে কেউ বুঝবে না, আমিও কাউকে বুঝবো না। কথাই আছে- “দেশের মানুষ চোরও ভালো” অত্যন্ত তাদেরকে দেখতে পাবো, আপদ বিপদে এগিয়ে আসবে, সুখ দুঃখ বুঝবে, অসুখ বিসুখ হলে যেখানে নেয়ার নিবে কিন্তু ছেলের কাছে যদি যেতে হয় তবে তো আর জানিনা জীবনের শেষ প্রান্তে ভাগ্যে কি ঘটে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana