মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

জামাইকে হত্যার দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

জামাইকে হত্যার দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার:

কিশোরগঞ্জে মেয়ের জামাইকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে শ্বশুর মো. আবু বাক্কারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সায়েদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আবু বাক্কার কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের তারাপাশা এলাকার বাসিন্দা। কিশোরগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট মো. আবু সাঈদ ইমাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী শারমিন আক্তার বাবা মারা যাওয়ার পর আবু বাক্কারের সঙ্গে তার মায়ের বিয়ে হয়। পরে আবু বাক্কারের বাড়ির পাশেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। এই অবস্থায় ২০১৪ সালে শহরের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা রূপক চন্দ্র বনিকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তার।

এক পর্যায়ে রূপক তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তাকে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করতে বলেন। শারমিনের কথায় রূপক মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তার নাম রাখা হয় ওমর ফারুক। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে মাঝে মধ্যে ঝগড়া হতো। সে বিষয়টি শারমিন তার বাবাকে বলেছিলেন। আর তাতেই তার স্বামীর প্রতি ক্ষিপ্ত ছিলেন শারমিনের বাবা। পরে ২০১৯ সালে ৩০ মে সকালে তার স্বামী তাকে আবু বাক্কারের বাড়িতে খুঁজতে গেলে তার সঙ্গে তর্ক হয়।

এক পর্যায়ে বাসা থেকে দা এনে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন আবু বাক্কার। খবর পেয়ে শারমিন সেখানে গিয়ে তার স্বামীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় আবু বাক্কার তাকে বলেন, নে তোর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ সারাজীবনের জন্য শেষ করে দিলাম। পরে এদিন রাতেই আবু বাক্কারকে একমাত্র আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন শারমিন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana