বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন ২২জন

ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন ২২জন

এম.এ হালিম, বার্তাসম্পাদক:
১৯৭৬ সালের ১৫ আগষ্ট কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করতে গিয়ে ২২ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে থানায় তাদেরকে অমানুষিক নির্যাতন করে জেলে পাঠানো হয়। তারপর দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর পর্যায়ক্রমে কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ কারাগার থেকে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়। সেই সাহসীদের কথা ভৈরবে এখন আর কেউ স্মরণ করেনা। আজও তারা অবহেলিত হয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদের মধ্য অনেকেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দুঃখে কষ্টে মারা গেছে।
আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের প্রথম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করতে ভৈরবে মিলাদের আয়োজন করা হয়। আয়োজককারীর নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল আলম আক্কাছ। তৎকালীন হাজি আসমত কলেজের শহীদ আশুরঞ্জন ছাত্রাবাসে (বর্তমানে শৈবাল হোটেল) শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, কোরআন খতম ও দোয়ার আয়োজন করা হয় সেদিন। দুপুরের পর বিকেল সাড়ে ৩টায় ১২ জন মৌলভী ছাত্রাবাসে এসে কোরআন খতম শুরু করেন। বিকেল ৪ টার মধ্য একে একে ২২ জন নেতা কর্মী মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হয়। মিলাদ শুরুর আগেই ভৈরব থানার প্রায় ২৫/৩০ জন পুলিশ ছাত্রাবাসটি ঘিরে ফেলে। সেদিন পুলিশ ছাত্রাবাসে প্রবেশ করেই মৌলানাদের কোরআন খতম বন্ধ করে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে সবাইকে। এসময় ফখরুল আলম আক্কাছ পুলিশের উপস্থিতির কারন জানতে চাইলে তাকে বেধরক পেটানো হয়।
তারপর সবাইকে ভৈরব থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে সারারাত ২২ জনকে অমানষিক নির্যাতন করে পুলিশ। পরদিন ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কিশোরগঞ্জ মহকুমা আদালতে প্রেরন করে। সেখান থেকে বিভিন্ন মেয়াদে করাভোগ করে সবাই মুক্তি পেলেও মুক্তি পাননি সেদিনের নেতৃত্ব প্রদানকারী যুবনেতা ফখরুল আলম আক্কাছ।পরে তাকে ময়মনসিংহ জেলহাজতে প্রেরন করে। সেখান থেকে ১বছর পরে তিনি মুক্তি পান।সেদিনের সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতি নিয়ে আজও বেচে আছে তিনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। যে কারনে ঔদিন এই কর্মসূচী নিয়েছিলাম। যদি দেশের সবখানে ভৈরবের মতো কর্মসূচী নিতো তাহলে হয়তো অনেক আগেই পরিস্থিতির পরির্বতন হতো।
এ বিষয়ে তৎকালীন থানা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ ফখরুল আলম আক্কাছ বলেন, শহীদ আশুরঞ্জন ছাত্রাবাসা বঙ্গ-বন্ধুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ও শোক দিবস পালনের আয়োজন করে কোরআন খতম ও মিলাদে অংশ গ্রহণের জন্য ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামীলীগসহ সবাইকে দাওয়াত করা হয় । মিলাদে অংশ গ্রঞণের জন্য বিভিন্ন মসজিদের ঈমামরা যখন কোরআন খতম শুরু করেন এবং বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেছে ঠিক সেই মূহুর্তে পুলিশভৈরব থানার প্রায় ২৫/৩০ জন পুলিশ ছাত্রাবাসটি ঘিরে ফেলে। সেদিন পুলিশ ছাত্রাবাসে প্রবেশ করেই মৌলানাদের কোরআন খতম বন্ধ করে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে সবাইকে। তারপর সবাইকে ভৈরব থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে সারারাত ২২ জনকে অমানষিক নির্যাতন করে পুলিশ। পরদিন ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কিশোরগঞ্জ মহকুমা আদালতে প্রেরন করে। সেখান থেকে বিভিন্ন মেয়াদে করাভোগ করে সবাই মুক্তি পেলেও মুক্তি পাননি সেদিনের নেতৃত্ব প্রদানকারী যুবনেতা ফখরুল আলম আক্কাছ।পরে তাকে ময়মনসিংহ জেলহাজতে প্রেরন করে।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু জানান, ১৯৭৬ সালে স্বৈরাচার সামরিক সরকার বঙ্গ-বন্ধর প্রথম মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পালন করতে দেয়নি। সেদিন ভৈরবের ২২ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে কারারুদ্ধ করে । সেদিনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
১৯৭৬ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী ভৈরবে পালন করতে গিয়ে ২২ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। সেদিন যারা উপস্থিত হয়েছিল তারা হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুবলীগ নেতা ফখরুল আলম আক্কাছ, আসাদুজ্জামান ফারুক (বর্তমানে সাংবাদিক), রুহুল আমিন, মতিউর রহমান, মফিজুর রহমান, আতাউর রহমান, আসাদুল হক শিশু, দীলিপ চন্দ্র সাহা ও তার ভাই দিপেন্দ্র চন্দ্র সাহা, আবদুল হামিদ, ইদ্রিছ মিয়া, মাহবুব আলম, রসরাজ সাহা, শাহজালাল হোসেন, আজমল ভূইয়া ও ফিরোজ মিয়া তারা অজো সেদিনের সে ভয়াল স্মৃতি নিয়ে বেচেঁ আছেন। এছাড়া ২২ জনের মধ্যে ৬ জন মারা গেছে। তারা হলো মাহাবুবুর রহমান মাহবুব,মোশারফ হোসেন জজ মিয়া,ফজলুর রহমান,সুবল চন্দ্র কর,আসাদ মিয়া ও জিল্লুর রহমান জিল্লু।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana