বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০২:০১ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে ৪৮ ঘণ্টায় হত্যা মামলার চার্জশিট দিলো পুলিশ

কিশোরগঞ্জে ৪৮ ঘণ্টায় হত্যা মামলার চার্জশিট দিলো পুলিশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জে ভাগ্নে কর্তৃক মামিকে জবাই করে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২৫ জুলাই) কিশোরগঞ্জ আদালতে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপস) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম। সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন হোসেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হারুয়া এলাকার তাইজুল (৪৫) সাথে বিয়ে হয় রেকসোনা (৩০)। বিয়ের পর থেকে তাইজুলের ভাগ্নে মামুনের সাথে মামি রেকসোনার অবৈধ পরক্রিয়া সম্পর্ক গঠে ওঠে। এর পর থেকে তাইজুলের সাথে রেকসোনার পারিবারিক কলহ বিরাজ করে। এ দীর্ঘ ১৭ বছরে তাদের ঘরে জন্ম নেয় দুই ছেলে ও ১ মেয়ে। ভাগ্নে মামুন ও মামী রেকসোনার এই অবৈধ সম্পর্ক টেরপেয়ে পরিবার মামুনকে বিয়ে করিয়ে দেয়। মামুনের ঘরেও জন্ম নেয় এক সন্তান। তার পরেও মামুন ও মামী অবৈধ সম্পর্ক শেষ না হওয়ায় মামুনের স্ত্রী চলে যায় মামুনকে ছেড়ে। এর মধ্যে মামুন ও মামি রেকসোনার সম্পর্কেও অবনতি ঘটে। মামুন মামির সাথে এ অবৈধ সম্পর্ক শেষ করতে চাইলেও মামির কারণে তা শেষ করতে পারেনি। মামুনও তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে মামিকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার দিন গত শনিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ফাকা বাসায় তাইজুলের স্ত্রী মামুনের মামি রান্না করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া। এ সময় ভাগনে মামুন ঘরে প্রবেশ করে মামির সাথে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ভাগনে মামুন তার মামিকে প্রথমে ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে আঘাত করে। পরে ধারালো চুরি দিয়ে মামিকে জবাই করে হত্যা করে মামুন।
ঘাতক মো. মামুনকে রোববার (২৪ জুলাই) কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল আমিনের আদালতে তুলা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মামুন বলে, মামীর সাথে এ অবৈধ সম্পর্ক শেষ করতে চাইছি কিন্তু মামির জন্য তা শেষ করতে পারেনি। এছাড়াও মামার সাথে মামি অনেক খারাপ ব্যবহার করতো। আমি অনেক পাপ করেছি, আজ মামিকে হত্যা করে সেই পাপ শেষ করে ফেললাম। দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মো. মামুন (৩০) কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের চরশোলাকিয়া এলাকার সোহরাব উদ্দিনের ছেলে। সে পেশায় একজন রঙ মিস্ত্রি। অন্যদিকে নিহত রেকসোনা আক্তার (৩০) গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ওয়াসীমুদ্দিন ছাত্রাবাসের বিপরীতের একটি বাসার তাইজুলের স্ত্রী ও তিন শিশুসন্তানের মা।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দাউদ জানান, ঘটনার দিন রোববার (২৩ জুলাই) রাতেই নিহতের স্বামী তাইজুল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার রুজু হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মামুনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ঘাতক মামুম হত্যার দায়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তথ্য উপাত্ত ও মামলার স্বাক্ষী পাওয়ায় আদালতে দ্রুত চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana