রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে লোডশেডিংয়ে রেকর্ড ভঙ্গ, ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা

কিশোরগঞ্জে লোডশেডিংয়ে রেকর্ড ভঙ্গ, ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা

ইমরান হোসেন, প্রধান বার্তাসম্পাদক:
কিশোরগঞ্জ জেলা সদর সহ ১৩টি উপজেলায় বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জন জীবন। আকাশে মেঘ জমলেই কিংবা সামান্য বাতাস শুরু হলেই পালিয়ে যায় বিদ্যুৎ। এই প্রচন্ড তাপদাহে বিদ্যুতের বেলকিবাজীর যেন শেষ নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। সব চেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রচন্ড গরমের যন্ত্রণায় প্রতিটি বাড়িতে শোনাযায় শিশুদের আত্মচিৎকার। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম বিপাকে। নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভোগান্তি। ঘন ঘন এমন লোডশেডিংয়ের কারণে কম্পিউটার, ফ্রিজ, পানির মোটর, ফটোকপি মেশিনসহ বিদুৎ চালিত যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার পথে।
এছাড়াও বাড়তি ভোগান্তি হিসেবে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ভুতুরে বিল। বিদ্যুতের নতুন সংযোগ ও খুঁটি সরানোর নামে একটি মহল হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ। বিদ্যুত অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ। জনগনের এমন ভোগান্তি দেখার যেন কেউ নেই। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
লোডশেডিং এর যন্ত্রনায় ফুঁসে উঠছে সাধারণ জনগণ, যে কোন সময় কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও হতে পারে লোকমুখে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। তারা আরো বলছেন, এর আগেও বিদ্যুত মাঝে মাঝে না থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা চলে আসতো। কিন্তু বর্তমান প্রকৌশলী যোগদানের পর থেকেই বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং শুরু হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া, বাজিতপুর, নিকলী, হোসেনপুরসহ প্রায় সবকটি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, লাইন সংস্কারের জন্য মাঝে মাঝে বিদ্যুতের লোডশেডিং হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার এমন কথা মানতে নারাজ কিশোরগঞ্জবাসী। তারা বলছেন, বিদ্যুতের লাইন মেরামত বা সংস্কার হয় দিনে, তাহলে রাতে কেন এতো লোডশেডিং। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে কটিয়াদীতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। দিন-রাত উভয় সময়েই বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে সমানতালে। একদিকে প্রচ- গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং। দুইয়ে মিলে মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
জেলার করিমগঞ্জে রমজানের শুরু থেকেই প্রচন্ড গরমের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের দৈনিক ১৭-১৯ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। অসহনীয় এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উপজেলাবাসী বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী, পোল্ট্রি খামারিসহ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অসন্তোষজনক। কিন্তু তার চেয়েও করিমগঞ্জ, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী উপজেলায় চলছে সীমাহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিং। প্রত্যেকটি উপজেলা জুড়েই দিন-রাত বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলছে।
করিমগঞ্জ উপজেলার শওকত নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘একদিকে জুন, জুলাই মাসে এমনিতেই প্রচন্ড গরম থাকে। অন্যদিকে লোডশেডিং এর কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি আমরা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকায় বেশী কষ্ঠ পাচ্ছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।
কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ মুঠো ফোনে সংবাদ সারাবেলাকে বলেন, ‘পূর্বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ২৭০ মেগাওয়াট আর বর্তমানে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৭০ মেগাওয়াট যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই বর্তমানে প্রত্যেকটি উপজেলায় বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যার ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গেছে।’
কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা: সালাহ উদ্দীন বলেন, সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে লোডশেডিং চলছে। এ ব্যাপারে পরে কথা বলবে বলে ফোন কেটে দিয়েছেন।

 

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana