বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

পাহাড়ি ঢলে হাওরসহ কিশোরগঞ্জের ছয় উপজেলা প্লাবিত

পাহাড়ি ঢলে হাওরসহ কিশোরগঞ্জের ছয় উপজেলা প্লাবিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল সহ প্রায় ৬টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর দুই দিনের ভারী বর্ষণের কারণে হাওর অঞ্চলের প্রায় ৪/৫ ফিট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে তলিয়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ। বিশেষ করে ইটনা উপজেলা সদরের নতুন বাজার, পুরান বাজার, কাঠ বাজার, আনন্দ বাজার, জনতাগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে পানি উঠে গেছে। ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার মালামাল কোথায় নিয়ে রাখবেন তা’ নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। কেউ কেউ বাড়ি ঘরে মালামাল গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনেকেরই বাড়ি ঘরের ভিটে পানি নিচে। নিন্ম আয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম দূর্ভোগে। রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যারা অটো রিক্সা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করতেন তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। এলাকার নিন্ম আয়ের দিন মজুর জেলে, কৃষক, বর্গা চাষিদের বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী নিয়ে তারাও পড়েছেন চরম বিপাকে। তারা একটু উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ছুটাছুটি করছেন জীবন বাঁচানোর তাগিদে। উজান থেকে নেমে আসা পানি আর পাহাড়ি ঢল ছাড়াও দুইদিনে দিনের ভারী বর্ষণের পাশাপাশি বাতাশের বেগের কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ে অনেকের পৈত্রিক ভিটে বাড়ি ভেঙ্গে সব হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও উজানের বিল ঝিল ও নীচু এলাকাতেও পানি প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে। পানি বাড়ার খবর পেয়ে জেলার হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও করিমগঞ্জ উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।
জানা গেছে, জেলার হাওরাঞ্চলে একের পর এক রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ও বাড়িঘরে প্রবেশ করেছে পানি। সব মিলিয়ে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। কিশোরগঞ্জের হাওরে ধনু, ঘোড়াউত্রাসহ অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীগুলোর পানি প্রায় ৮৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এদিকে ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ও আনন্দ বাজারে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে দোকান-পাট তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে জয়সিদ্ধি বাজার সংলগ্ন রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে গেছে। পানি আরও বেড়ে গেলে কেনাকাটা বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও পানিবন্দি মানুষ বিপাকে পড়েছেন। বানভাসিদের নিরাপদ আশ্রয় দরকার বলছেন তারা। দিন দিন যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উঁচু ভবনে থাকার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান জানান, নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: শামীম আলম জানান, হাওরের উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং বন্যার্তদের উদ্ধারের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নৌযান ও শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়াও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া অসহায় মানুষদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। ইতোমধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলার বন্যার্তদের জন্য ১৪০ টন জিআর চাল, আড়াই লক্ষ টাকা জিআর ক্যাশ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও করিমগঞ্জ উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং বন্যার্তদের উদ্ধারের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নৌযান ও শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়াও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া অসহায় মানুষদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। তার সাথে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana