মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১১:৪১ অপরাহ্ন

তাড়াইলে ‘ভাটির রাজা’র দাম ১২ লাখ টাকা

তাড়াইলে ‘ভাটির রাজা’র দাম ১২ লাখ টাকা

 আমিনুল ইসলাম বাবুল, তাড়াইল:
কাজল-কালো বর্ণের বিশাল দেহ। উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। বুকের বেড় ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি। ডাগর ডাগর চোখ। শক্তিশালী আর তেজোদ্দীপ্ত। চলন আর আচার-আচরণ রাজার মতোই। তাই আদর করে নাম রাখা হয়েছে ‘ভাটির রাজা’।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সবার নজর কাড়ছে বিশালাকৃতির ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি। প্রায় ১,২০০ কেজি (৩০ মণ) ওজনের রাজাকে বিক্রি করতে খামারী দাম হাঁকছেন ১২ লাখ টাকা। এই ভাটির রাজা-ই এখন পর্যন্ত তাড়াইল তথা কিশোরগঞ্জের সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে আলোচিত।
ভাটির প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নে কাজলা গ্রামে শৌখিন খামারি মো. মতিউর রহমানের খামারে প্রাকৃতিক খাবার আর পরম মমতায় বেড়ে উঠছে ‘ভাটির রাজা’। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কদর বেড়েছে রাজা’র। এরই মধ্যে রাজাকে দেখতে খামার মালিক মো. মতিউর রহমানের বাড়িতে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ।
মো. মতিউর রহমানের খামারে আরাম-আয়েশে যেন রাজার হালেই দিন কাটছে তার। ফ্রিজিয়ান জাতের এ ষাঁড়টি দৈনিক ১৫ থেকে ১৮ কেজি দানাদার খাবার ও সবুজ ঘাস ছাড়াও সময় করে দিতে হয় অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার।‘খাটির রাজা’র খাবারের তালিকায় রয়েছে খামারীর নিজস্ব জমির কাঁচা ঘাস, শুকনো খড়, গমের ভুষি, খেসারির ভুষি, ভুট্টাভাঙা ও কলা। প্রাকৃতিক খাবারই প্রিয় রাজার কাছে। হাওরে এর আগে এত বড় ষাঁড় কেউ দেখেননি বলে জানান।
মাত্র দেড় বছর বয়সে দেশি প্রজাতির এ ষাঁড়টি কিনে লালন-পালন শুরু করেন মো. মতিউর রহমান। ‘ভাটির রাজা’ ছাড়াও তার খামারে আছে আরও কয়েকটি গরু। তিনি জানান, এরই মধ্যে রাজাকে দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা তার বাড়িতে আসছেন। প্রথম দেখায়ই রাজাকে পছন্ন করছেন সবাই। দরদাম করছেন। রাজার দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা।
ক্রেতারাও কাছাকাছি দাম বলছেন বলে জানান ‘আহমেদ এগ্রো’ ফার্মের মালিক মো. মতিউর রহমান।
তিনি বলেন, প্রত্যাশিত দাম পেলেই ষাঁড়টি বিক্রি করা হবে। তবে ভাটির রাজাকে হাটে না তুলে খামার থেকেই বিক্রি করতে চান এ খামারি।
তাড়াইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নূরজাহান বেগম বলেন, গরুটির মালিক মো. মতিউর রহমান একজন সফল উদ্যোক্তা। ‘আহমেদ এগ্রো’ নামে তিনি একটি খামার গড়ে তুলেছেন। গত বছর তিনি দেশি জাতের বেশ ক’টি গরু বিক্রি করেছেন। গরুটি লালন পালনে খামারী মো. মতিউর রহমান কোনো ধরণের হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করেননি। গরুটি যতটা-ই-না ওজন তার চেয়ে দেখতে অনেক বেশি সুন্দর।

 

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana