মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

ভৈরবে শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ॥ ৮০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

ভৈরবে শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ॥ ৮০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

এম.এ হালিম,বার্তাসম্পাদক ॥

ভৈরবে শিক্ষক এ কে এম কামরুজ্জামান বেশি মোনাফার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোক জনের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । শুধু লোক জনের কাছ থেকেই নয় শহরের চন্ডিবের হাজি আসমত এতিমখানা স্কুল এন্ড কলেজের ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা আতœসাতের অভিযোগে ভৈরব থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে ।
একে এম কামরুজ্জামান হাজি আসমত এতিমখানা স্কুল এন্ড কলেজে ২০১৭ সালে সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন । চাকুরীর পাশাপাশি তিনি গেল বছর চন্ডিবের এলাকায় একটি লাইব্রেরী ও দেন । ব্যবসার কথা বলে লোকজনকে অধিক মোনাফার লোভ দেখিয়ে ফাদেঁ ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে তিনি তার সহকর্মীসহ বেশ কিছু লোকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন । ঈদের পর থেকে তিনি কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় এবং পাওনাদাররা তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় অনেকেই থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন । তবে শিক্ষকের পরিবারের দাবি তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেননা । ঈদে বরিশালের বাকের গঞ্জের কাঠালিয়া নিজ বাড়িতে যাবার কথা বলে চলে গেছেন এখনো ফিরেননি । অদ্যাবধি তিনি নিখোঁজ রয়েছেন । আমরা চিন্তিত ।
এ বিষয়ে ভোক্তভোগী মোঃ মুসা মিয়া জানান , গত ২০ জানুয়ারী শিক্ষক কামরুজ্জামান তার স্ত্রীর নামে বাড়ি বিক্রির কথা বলে বায়না দলিল মূলে আমার কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ টাকা নিয়ে জমি লিখে না দিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে । এ ঘটনায় ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি ।
এ বিষয়ে মতিউর রহমান জানান, আমার কাছ থেকে ১৪ লাখ, শিক্ষক সাথী আক্তার জানান তার কাছ থেকে ২ লাখ,শিক্ষক আল-আমিনের কাছ থেকে ৩ লাখ,স্কুলের এক কর্মচারীর কাছ থেকে ২ লাখ, তিতাস গ্যামের কর্মচারী জায়েদুল ইসলাম রবিনের কাছ থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার,শিক্ষক সাইফুল হক হৃদয়ের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার, হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ৫ লাখ, রইছ উদ্দিনের কাছ থেকে ৭ লাক টাকাসহ আরো ৭/৮ জনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ভোক্তভোগীরা জানান । তবে যারা টাকা দিয়েছেন তরা কেউ জানেনা করো টাকা দেওয়ার খবর । এভাবে গোপনে ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন ওই শিক্ষক । তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ওই শিক্ষকের ব্যবহাওে এবং টাকা নেয়ার পর প্রথম দিকে ভালো লাভ দিয়েছিলো ওই শিক্ষক । আসলে ওই লাভ ও লোভের পাল্লায় পরে এভাবে সবাই গোপনে টাকা দিয়েছে। শিক্ষক কে খোজেঁ না পাওয়ার পর টাকা দেওয়ার বা নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে সবাই জানতে পারে যে প্রতারণার খপ্পরে পড়েছে ।

এ বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষক একে এম কামরুজ্জামানের ব্যবহৃত মোবাইল০১৭৮০০৮৭৬৫১,০১৬২৭৬৬৩৮০২ নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিয়ে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় ।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান একাধিক লোকজন থানায় এসেছে তাদেরকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি । তাছাড়া কয়েজজন থানায় সাধারন ডায়েরী ও করেছে ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana