মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

২ সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে আসছে দিনাজপুরের পাকা লিচু

২ সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে আসছে দিনাজপুরের পাকা লিচু

একুশে ডেস্ক:

লিচুর রাজ্য হিসেবে খ্যাত দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ লিচু বাগানের গাছে গাছে এখন ঝুলছে থোকা থোকা লিচু। ইতোমধ্যেই কিছু কিছু গাছের সবুজ লিচু লাল আভায় আচ্ছাদিত হতে শুরু করেছে।

রসালো, সুস্বাদু মিষ্টি ফল লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুর জেলা। ইতোমধ্যেই লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এই জেলা। এই জেলার লিচুর সুনাম দেশ জুড়েই। দিনাজপুরের সদর, বিরল, কাহারোল, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ ও খানসামা উপজেলায় রয়েছে সিংহভাগ লিচু। তবে বিরল ও সদর উপজেলাতেই অধিকাংশ লিচুর বাগান রয়েছে।

দিনাজপুরে যেসব জাতের লিচু রয়েছে সেগুলোর মধ্যে-মাদ্রাজি, বোম্বে, বেদানা, চায়না থ্রি, কাঁঠালি উল্লেখযোগ্য। দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার লিচুর বাগান ঘুরে দেখা যায়, ইতোমধ্যেই মাদ্রাজি জাতের লিচুর গায়ে রং আসতে শুরু করেছে। আর বোম্বে, বেদানা, চায়না-থ্রি ও কাঁঠালি লিচু সবুজ রঙেই গাছে ঝুলছে।

বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামের লিচুর বাগান মালিক আনারুল ইসলাম, সাধারণত মাদ্রাজি জাতে লিচু আগে পাকে। আর শেষে পাকে বোম্বে, বেদানা, চায়না-থ্রিসহ অন্যান্য লিচু। তিনি বলেন, মাদ্রাজি লিচু পরিপক্ব হতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ লাগবে। আর পরিপক্ব বোম্বে, বেদানা, চায়না-থ্রি বাজারে আসতে সময় লাগবে আরও একমাস।

একই উপজেলার পুরিয়া গ্রামের লিচু চাষি মতিউর রহমান বলেন, বাগানে মাদ্রাজি জাতে লিচুতে রঙ আসতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব লিচু পরিপক্ব হয়ে উঠবে।

তবে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটসহ কিছু কিছু এলাকায় অপরিপক্ব লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কিছু বাগান মালিক অধিক লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু বাজারে নিয়ে আসছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) খালেদুর রহমান জানান, দিনাজপুর জেলায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এই বাগানগুলোতে লিচু উৎপাদন হয় প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, মাদ্রাজি লিচু বাজারে আসতে সময় লাগবে আরও প্রায় ১৫ দিন।

এদিকে লিচু পাকার সময় ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় সময় পার করছেন বাগান মালিকরা। গাছের লিচুকে হৃষ্টপুষ্ট করতে হরমোনসহ বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করছেন তারা।

দিনাজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম রামনগর এলাকার বাগান মালিক রবিউল ইসলাম জানান, মুকুল আসার সময় অতিরিক্ত খরার কারণে এবার অনেক মুকুল ঝরে পড়েছে। এ কারণে ফলন কিছুটা কম হবে। এতে কিছুটা ক্ষতির আশংকা করেন তিনি। তবে আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং বাজারে ভালো দাম থাকলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ জন্যই শেষ মুহূর্তের বাগান পরিচর্যায় তারা ব্যস্ত সময় করছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana