মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১২:৫১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রাশিয়ায় হামলায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির কথা জানালেন জেলেনস্কি হোসেনপুরে আইন-শৃংখলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনের প্রচারণায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মঙ্গলবাড়িয়ায় ১শ কোটি টাকা লিচু বিক্রির আশা গোপনে জব্দকৃত গাড়ি বিক্রির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন কিশোরগঞ্জে শ্রেষ্ঠ ইমামদের বাচাই ও ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত কাউন্সিলরের নাম না থাকায় কিশোরগঞ্জে আ’লীগের  বিক্ষোভ মিছিল ভৈরবে বিএনপি দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ॥ রফিক সভাপতি, আরিফ সম্পাদক হোসেনপুরে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিষয়ক কর্মশালা কিশোরগঞ্জে বেকার যুবদের আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে বিনামূল্যে আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ শুরু
বৃষ্টি স্নানে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

বৃষ্টি স্নানে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

ইমরান হোসেন, বার্তা প্রধান:
করোনা (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে কিশোরগঞ্জে এবার দেশের বৃহত্তম ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ১৯৫তম পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩মে) তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে সকাল ১০টায় এ ঈদগাহে ১৯৫তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ অসুস্থ্য থাকায় তার অনুপস্থিতে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা শোয়েব বিন আব্দুর রউফ।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই এ ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া ময়দানে। ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য মোট ২১টি ফটকের মধ্যে ছয়টি প্রবেশপথ উন্মুক্ত রাখা হয়। এসব প্রবেশপথে স্থাপিত আর্চওয়ে দিয়ে মুসল্লিরা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ঢোকেন। তবে নামাজ শুরু হওয়ার ১ঘন্টা পূর্বে থেকে মুশলধারে বৃষ্ট্রি হয়। এতে কিছুটা ভোগান্তির স্বীকার হয় মুসল্লিরা।
এছাড়া পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার ঘটনাকে মাথায় রেখে মাঠ ও মাঠের আশপাশের এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে পাঁচ স্তরের নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয়। আর এ নিরাপত্তা ব্যবস্থার গভীর পর্যবেক্ষণে ছিল ড্রোন ক্যামেরা। মুসল্লিরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এ নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ ‘সংবাদ সারাবেলা’কে জানান, ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার ঘটনাকে মাথায় রেখে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান এলাকাটিকে ১৬টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। ২৪টি চেকপোস্ট ও ১২টি পিকেট ব্যবস্থা ছিল। মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গভীর পর্যবেক্ষণে সাদা পোশাকের পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি ছিল ড্রোন ক্যামেরা।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শামীম আলম জানান, মুসল্লিদের নিরাপত্তাসহ সব দিক বিবেচনায় রেখে ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানকে ১৯৫তম ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়। দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ঈদের দিন ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দু’টি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করে।
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইউসুফ জানান, ময়মনসিংহ থেকে একটি স্পেশাল ট্রেন ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছায় এবং অপর একটি স্পেশাল ট্রেন ভৈরব থেকে ভোর ৬টায় ছেড়ে সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ওই ঈদ স্পেশাল ট্রেন দুটি নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ছেড়ে যায়।
ঈদের জামাতে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ আলী সিদ্দিকী, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম. এ আফজল, পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খানসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাত একর জমির ওপর মূল ঈদগাহটি প্রতিষ্ঠিত হলেও স্থান সংকুলানের অভাবে মাঠের চারপাশের খালি-জায়গা, বসতবাড়ির আঙিনা এবং রাস্তাঘাটে অগণিত মুসুল্লিকে নামাজ আদায় করতে হয়েছে। কমিটির লোকজন ধারণা করেছেন এবার দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জামাতে অংশ নিয়েছেন।
এ মাঠের ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, শোলাকিয়া মাঠ এলাকার পূর্ব নাম ছিল ইচ্ছাগঞ্জ। শোলাকিয়া সাহেব বাড়ির পূর্ব পুরুষ শাহ সুফী মরহুম সৈয়দ আহম্মেদ ১৮২৭ সনের প্রথমে এ স্থানে সবপ্রথম একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং পরে ১৮২৮ সনের শেষ ভাগে শোলাকিয়া মাঠের গোড়াপত্তন হয়।
পরবর্তীতে বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশাখাঁ’র ৬ষ্ঠ বংশধর হয়বতনগরের শেষ জমিদার দেওয়ান মোঃ মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সনে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের জন্য তার মায়ের অসিয়াত মোতাবেক ৪.৩৫ একর জমি ওয়াক্ফ করেন। দলিলের সূত্র মতে ঐ সময়ের আরও ২শ বছর আগে ১৭৫০ সন থেকেই এ ঈদগাহে দুটি ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়ছিলো বলে জানা যায়।
জনশ্রুতি রয়েছে, দীর্ঘকাল আগে একবার অংশগ্রহণকারী মুসল্লির সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়ালাখ মুসল্লি জামাতে অংশ গ্রহণ করেছিল। সেই থেকেই সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া উচ্চারণ; পরবর্তীতে কালের বিবর্তনে এ মাঠের নাম হয়েছে শোলাকিয়া।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana