শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৩১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে শেষ মুহুর্তে জমজমাট ঈদ মার্কেট ॥ চলে মধ্যরাত পর্যন্ত

কিশোরগঞ্জে শেষ মুহুর্তে জমজমাট ঈদ মার্কেট ॥ চলে মধ্যরাত পর্যন্ত

মো: ইমরান হোসেন, বার্তাপ্রধান:

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। রোজা শেষ হচ্ছে একে একে। আর কাছে আসছে ঈদ, খুশি। তাই নতুন পোশাক কিনতে কিশোরগঞ্জের মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়, আনাগোনা। জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। দম ফেলার সময় নাই দোকানিদের। জেলা শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা রথখলা, বড়বাজার, তেরিপট্টি ও গৌরাঙ্গবাজারের বিপণী বিতানগুলোতে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে কেনা-বেচা। মার্কেটগুলোতে দেশি পোশাকের পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানী পোশাকের কেনাবেচা চোখে পড়ার মতো।
শাড়িসহ রেডিমেড পোশাক কেনার জন্য ছোট বড় সব মার্কেটেই ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। শিশু ও নারীদের পাশাপাশি ছেলেরাও ঈদের নতুন পোশাক কিনতে ভিড় জমাচ্ছে মার্কেটগুলোতে। অন্যদিকে পোশাকের পাশাপাশি পাদুকার মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম চোখে পড়ার মতো। শিশু, কিশোর, তরুন, তুরুনীদের জামার সাথে পছন্দমত জুতা না মেলায় তারা ছুটা ছুটি করছে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। এ দিকে কসমেটিকস সামগ্রীর দোকানেও অনেক ভিড়। ফুট পাতের দোকানগুলোতে যেন পা রাখার যায়গা নেই। নি¤œ আয়ের মানুষের সামার্থ কম থাকায় তারা ভিড় জমাচ্ছে ফুটপাতের দোকানগুলোতে। রমজানের প্রথম দিকে দোকানে ক্রয়-বিক্রয় কম থাকলেও বর্তমানে ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে অনেক মার্কেটেই দোকানিদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। ঈদ মার্কেটে ক্রেতাদের মধ্যে সিংহভাগই নারী।
তবে গত বছরের তুলনায় পোশাকের দাম এবার একুট বেশি বলছেন ক্রেতারা। তবে কেনা-কাটার নিরাপদ পরিবেশের কারণে ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। জেলা সদর ছাড়াও ১৩টি উপজেলা শহর ও গ্রামগঞ্জের মার্কেট, বিপণী বিতানগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল থেকেই শহরের সকল শপিং মার্কেট, ফ্যাশন হাউস ও বিপণী বিতানগুলো ক্রেতা সমাগমে মুখর হয়ে উঠছে।
ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দোকানে দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ডিজাইনের লং কামিজ লেহেঙ্গাসহ দেশি-বিদেশি রঙ-বেরঙের পোশাক। তবে এবার তরুণীদের চোখ বাহুবলি, সাহারা, কাঁচা বাদাম, সহ নিত্যনতুন ভারতীয় কাপড়ের দিকেই।
ঈদের কাপড় কিনতে আসা ক্রেতা সুবর্ণা বলেন, প্রতিবারই ঈদে নিত্যনতুন কাপড় বিক্রি হয়। এবারও ভারতীয় অনেক সিনেমা ও সিরিয়ালের নামানুসারে কাপড় এসেছে। সেখান থেকে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাহুবলি ও বাহুবলি-২। এ ছাড়া পাকিস্তানি ও দেশীয় অনেক ডিজাইনের কাপড় পছন্দ করে নিচ্ছি।
এদিকে কাপড় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার দেশি পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় পোশাক বিক্রি হচ্ছে সমানতালে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন দেশি বিদেশি যাই হোক ঈদে চাই পছন্দের পোশাক। কিন্তু হতে হবে সাধ্যের মধ্যে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে বেচা-বিক্রিও ততই বাড়বে ।
রথখলা ঈশাখাঁ রোডের ভূঞা সুপার মার্কেটের দুই তলায় সবচেয়ে বড় অভিজাত দোকানের মালিক অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, এবার ঈদের বাজার জমেছে একটু দেরিতে৷ তবে আগের চেয়ে এবার বেচাকেনা বেশী৷ পোশাকের দাম বেশী হলেও ভাল মানের জিনিস পেয়ে ক্রেতারা খুশি৷ এবার টাংগাইলের তাঁতের শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে৷ বলতে গেলে ক্রেতা সবাই নারী। ৭৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত শাড়ির মূল্য রয়েছে৷ ১৫শ’ টাকা থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যেই বেশি বিক্রি হচ্ছে৷ মেয়েদের থ্রি-পিস বাহুবলি-২, কিরণমালা, সানাসফি, জিপসির, সাহারার দাম তিন হাজার থেকে ১০হাজার টাকার মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে৷
কিশোরগঞ্জ অভিযাত বিপনী বিতানের ম্যানেজার মো: নাবিজ উদদৌলা বলেন, বর্তমানে বেচা বিক্রি খুব ভালো। এখানে মেয়েদের কোন পোষাক নেই। বাচ্চা এবং বয়স্কদের পোশাকই বেশি বিক্রি হয়। মারিয়া থ্রি-পিস সেন্টারের মালিক জামান, নরসুন্দা ফ্যাশনের মালিক রবিউল্লা ও মারিয়া ফ্যাশানের শফিকুল আলম বেচাকেনা ভাল হওয়ায় খুশির সুরে বলেন, বেচা-বিক্রিতে কোনো ক্লান্তি নেই৷ বাচ্চাদের পোশাকের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি, তবে বিক্রিও ভালো হচ্ছে৷ বাচ্চাদের শার্ট, প্যান্ট, জুতার পাশাপাশি জিন্স ও গ্যাবাডিন প্যান্টের চাহিদা বেশি৷ প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে ১৩শ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে৷ অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই দর্জির দোকানগুলোতেও। বেশির ভাগ দর্জির দোকানে নতুন করে কোনো অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না। আগে নেওয়া কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা করছে তারা।
সাদিয়া নামের একজন ক্রেতা বলেন, মেয়ের জন্য নতুন পোশাক কিনতে এসেছি। প্রতিবারের তুলনায় এ বছর দাম অনেক বেশি। ন্যাহ্য মূল্যের চেয়ে দাম অনেক বেশি চাচ্ছে দোকানিরা। একটি গ্রাউন জামা ৩৫০০ টাকা চেয়েছে। ১২০০ টাকায় কিনেছি।
পোশাকের দাম বেশি চাওয়ার ব্যাপারে কবির নামের এক দোকানীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, করোনার গত ২বছরে আমাদের ব্যবসা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এখন সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দাম অনেক বেশি চাই। অনেক ক্রেতা দর কষিয়ে কিনে নিয়ে যায়। আবার অনেকে বেশি দামা-দামি করে না। তাই অনেকের কাছে কম লাভে বিক্রি করি; আবার অনেকের কাছে বেশি লাভে বিক্রি করি।
নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অনিবার্ণ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে চেক পোষ্ট বসানো আছে। চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা প্রতিরোধে প্রত্যেক পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।

 

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana