মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার ও প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

কিশোরগঞ্জে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার ও প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

আমিনুল হক সাদী :
কিশোরগঞ্জের মহিনন্দের শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার ও প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়ায় মহিনন্দবাসী গর্বিত ও উৎফুল্লিত হয়েছে। সরকারকেও ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।বিশেষ করে আশ্রয়ন প্রকল্পের গৃহহীন মানুষেরা নিজস্ব গৃহ পেয়ে এই রমজানে প্রাণভরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দুয়া করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা,আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অভূতপুর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ সজীব ওয়াজেদ জয় এর সার্বিক নির্দেশনায় ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কাজ দূঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ মার্চ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের শোলমারা শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপিত করেছেন ভাটির শিংহ শার্দুল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। শোলমারা স্থানটিতে এক সময়ে বৃটিশ আমলে সরকারীভাবে ইটাখোলা ছিলো। এখানকার উৎপাদিত ইট দিয়েই জেলাসহ সর্বত্রই ইমারত তৈরী করা হতো। পরবর্তীতে ইটাখলাটি বন্দ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২৮ একর জায়গার পুরোটাই পতিত পড়ে থাকে। একাত্তরে এই শোলমারায় হানাদার বাহিনী নিরীহ মানুষকে ধরে মেরে ফেলতেন। দেশ স্বাধীন হলে এই শোলমারায় শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতি ফলক তৈরী করা হয়। কিন্ত কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় জায়গাটি পতিতই থেকে যায়।
অপর দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নে আশ্রয়ণ -২ প্রকল্পের আওতায় গৃহ নির্মাণের সিদ্ধান্তে সরকারের এই যুগান্তকারী ভূমিকায় উৎফুল্লিত হয়েছে এতদাঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে গৃহহীন পরিবারের সদস্যরা। সম্প্রতি গৃহ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৪ মিজ গুলশান আরা। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৩য় পর্যায়ের মহিনন্দ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩২টি পরিবারের নির্মাণাধীন গৃহের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তার সাথে ছিলেন সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। তিনি জানান, পরিদর্শনকালে গৃহ নির্মাণ কাজের বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৪ মিজ গুলশান বলেন, ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না’- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মহতী স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে জমি ও ঘর দেশের বিভিন্ন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। “মুজিববর্ষে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না”- এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুধু একটি ঘোষণা নয়, এটি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার একটি লালিত স্বপ্ন।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলায় সরকারি খাস জমিতে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। আশ্রয়ণ -২ প্রকল্পের আওতায় জেলায় ইতোমধ্যে ১২৪৭ টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এবারে কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ঘর পেয়েছে ৪৮৬ অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। গত মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার সম্প্রসারিত ভবনের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মৃতি মিলনায়তনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড.সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম গৃহহীন ও ভূমহীনদের মধ্যে এসব ঘর হস্তান্তর করেন। অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ভাইস চেয়ারম্যান আ.সাত্তার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. মাছুমা আক্তার, মহিনন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনসুর আলী, ইউপি চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বীরমুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিকদলের ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, কিশোরগঞ্জ জেলায় এখন পর্যন্ত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১ম ও ২য় পর্যায়ে ১২৪৭টি (৬১৬+৬৩১) ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ গৃহ প্রদানের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ৩য় ধাপে গত মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দে ৩২, করিমগঞ্জ ২৩,নিকলী ৫২, পাকুন্দিয়া ১৮, অষ্টগ্রাম ৩২, হোসেনপুর ১০, কুলিয়ারচর ৫২, ভৈরব ৭৩, বাজিতপুর ৪৮, কটিয়াদী ১৩, তাড়াইল ৪৬, মিঠামইন ১৭৮ ও ইটনায় ৫১ টি ঘর’সহ জেলায় মোট ৬২৮টি ঘর প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় ব্যারাক হাউস নির্মাণের মাধ্যমে ইটনা উপজেলার আড়ালিয়া ও মজলিশপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ২৭০টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ৩য় পর্যায়ের ৬২৮টি ঘরের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে যার মধ্যে ৪৮৬টি ঘর মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চূয়ালি উদ্বোধন করেন। তিনধাপে এ পর্যন্ত জেলায় সর্বমোট ২১৪৫টি “ক” শ্রেনির ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলমান আছে। বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ৪র্থ ধাপে আগামী নভেম্বর/২২ এর মধ্যে আরও ৩৯৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে সরকারি খাস জায়গা কিংবা দখল হওয়া জায়গা দখলমুক্ত করে। কিশোরগঞ্জ জেলায় ২০২০ সাল হতে অদ্যাবধি আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় একক গৃহ নির্মাণের জন্য প্রায় ৫১.৭৪ একর খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৬ কোটি ১২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
শোলমারা এলাকার ইতিহাস পর্যলোচনা করলে জানা যায় এখানে বায়াত্তরের শিল্পমন্ত্রী দেশের প্রথম অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তান শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম এসেছিলেন রাষ্ট্রীয় সফর সুচিতে। এই সেই শোলমারা যেখানে বীর প্রতীক সিতারা বেগম এসেছিলেন। এই শোলমারার পাশেই মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদে আজকের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ যখন ডেপুটি স্পীকার ছিলেন তখনও এসেছিলেন। এমনকি তিনি মহিনন্দের একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয় মহিনন্দ নিন্ম মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে আগমন করেছিলেন। সাথে তৎকালীন সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও এসেছিলেন। এই শোলমারায় পতিত ভূমিতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর নামে একটি শিশু পার্ক স্থাপনের দাবী জানিয়ে এই অঞ্চলের শিশুরা ২০১১ সালে তৎকালীন এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছিলেন এই বলে যে ও আশরাফ কাকু আমাদেরকে একটি শিশু পার্ক দাও না। আর সে দাবীটি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন নারীনেত্রী নাজমুন্নাহার মলি। এ দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদীসহ মহিনন্দের আরও অনেকেই। সে দাবীর প্রেক্ষিতে এলজিআরডিমন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছিলেন পার্ক হবে। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রী মহোদয়ের স্ত্রী শিলা ইসলাম সেখানে পরিদর্শনে একই কথা বলেছিলেন। সৈয়দ আশরাফের বোন বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি মহিনন্দ ইউনিয়ন কমপ্লেক্স উদ্বোধনকালেও মহিনন্দবাসীকে আশ্বাস করেছিলেন যে শোলমারা পতিত থাকবে না আর। গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ভাটির শিংহ শার্দুল মোঃ আবদুল হামিদ এডভোকেট মহোদয় সেই শোলমারায় শেখ কামাল ইনভেশন আইটি সেন্টার এর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মহিনন্দবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী অবশেষে পুরণ হতে যাচ্ছে। শুধু আইটি সেন্টারেই না এখানে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠবে বলে জানা গেছে।
ঊাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, সংবাদ বিজ্ঞত্তিতে ও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ৩০ মার্চ বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদরের মহিনন্দ ইউনিয়নের শোলমারায় ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ একর জমিতে “শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার” এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভিত্তিপ্রস্তর শেষে তিনি চারটি বৃক্ষের চারাও রোপণ করেন। এ সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জুনায়েদ আহমেদ পলক, স্থানীয় সংসদ ডাক্তার সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. এম এ আফজাল, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, ইউএনও মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ভাইস চেয়ারম্যান আ.সাত্তার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুমা আক্তার, বঙ্গভবনের সচিবগণসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি “শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার” নির্মাণ উপলক্ষে আয়োজিত কিশোরগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনাসভায় মিলিত হন।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক এর ব্যবস্থাপনা পডিরচালক গ্রেড-১) বিকর্ণ কুমার ঘোষ। বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম বার, বাংলাদেশ ডিজেল প্লান্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোঃ রফিকুল ইসলাম এসপিপি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, সরকার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক, মেহনতি জনতা, বাংলার মাটি ও মানুষকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে একসাথে সংযুক্ত করতে পেরেছে। শহর ও গ্রামে এখন ডিজিটাল বিভাজন কমে এসেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ফলে দেশে গড়ে উঠেছে ডিজিটাল অর্থনীতি। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। ২০০৮ সালে দেশের মাত্র ৮ লাখ মানুষ ইন্টারনেট সেবা পেত। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটিরও বেশি। এসময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৪ গুণেরও বেশি।
তিনি বলেন, দেশে গড়ে উঠছে ৩৯টি হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার পার্ক এবং আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। তরুণ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশে সাড়ে ছয় লক্ষ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার আছে। এ খাতে অসংখ্য তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। তবে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় পুরুষের পাশাপশি নারীরাও যেন সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।
অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আজ কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অষ্টগ্রাম-মিঠামইন উপজেলার তরুণ-তরুণী মুরাদ-লিজার মতো ফ্রিল্যান্সার আপওয়ার্ক-ফাইবারের মতো মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ডলার উপার্জন করছে। ডলার উপার্জনের জন্য তাদের কখনও আমেরিকায় যেতে হয়নি। কিশোরগঞ্জের মাটিতে বসে মেধা খাটিয়ে কম্পিউটার ব্যবহার করে আমেরিকার একটা কোম্পানিতে কাজ করে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। এটাই হলো শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ। দেশের ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। মাত্র ১৩ বছরে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে প্রযুক্তি শিল্প থেকে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার। আমাদের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করতে চাই। আমরা আশা করছি আগামী দেড় বছরের মধ্যে এই আইটি ট্রেনিং সেন্টারের নির্মাণ শেষ হয়ে যাবে এবং দুই বছরের মধ্যে এখানে আমরা কার্যক্রম শুরু করব। এখান থেকে প্রতি বছর এক হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নুর লিপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই রচিত হয় একটি বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি। ডিজিটাল বাংলাদেশ আসলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলারই আধুনিক রূপ।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, আমি অত্যন্ত গর্বিত হই, আত্মতৃপ্তি পাই, আবেগে আপ্লত হই যখন শুনি আমার এলাকার ছেলেরা গতানুগতিক ব্যবসা-বাণিজ্যর বদলে অনলাইনে কাজ করে ডলার উপার্জন করছে।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-১) ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৬৪টি জেলায় আইটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। কিশোরগঞ্জ ছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় আরো ১০টি জেলায় (মানিকগঞ্জ, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, বান্দরবান, কুষ্টিয়া, জয়পুরহাট, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, দিনাজপুর ও মেহেরপুর) শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সেনাবহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ১১টি জেলায় প্রায় ৭৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম; বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. রফিকুল ইসলাম; জেলা প্রশাসক মো. শামীম আলম, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদসহ বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। এতে আমাদের মহিনন্দের তরুণ উদ্যেক্তা আরিফ উল্লাহও একটি ল্যপটপ পান। মহিনন্দের সন্তান জেলা উদ্যোক্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মহিনন্দ ইউপির উদ্যেক্তা শাহরিয়ার আলম নাহিদ বলেন, আমি গর্বিত যে এই অনুষ্ঠানের জন্য ১০ জন উদ্যেক্তার দাওয়াতের জন্য আমার কাছে নাম আহবান করেন কর্তৃপক্ষ পরে আমি দশ জন উদ্যেক্তাকে এতে অংশ গ্রহণের জন্য নাম দেই। এই পরম সুযোগটি পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদেরকে ধন্যবাদ জানাই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান মহিনন্দের বাসিন্দা সাবেক এমপি জননেতা আলমগীর হোসেনের পুত্র বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ দিদারুল আলম সানী। তিনি জানান এই প্রযুক্তিতে আমি একজন ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে পেরে গর্বিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ন্ন্যূতম এসএসসি বা সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আইটিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ তৈরি এবং আইটি খাতে যুব সমাজের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তার জন্য ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করছে আইসিটি বিভাগ। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে অনুমোদন পেয়ে কাজ শুরু হয়ে আগামী ২০২৫ সালের জুনে এ প্রকল্পটির শেষ হবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহিনন্দ তথা পুৃরো জেলাবাসী উপকার পাবে। বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। উদ্যেক্তা তৈরী হবে।
মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক শামীম প্রতিবেদককে জানান, আমাদের সৌভাগ্য যে মহিনন্দের এই অজপাড়া গ্রামে বৃহত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠছে। “মহিনন্দের শোলমারায় পানিতে শহীদদের আতœা ভেসে বেড়ায় আর শুকনায় গোচারণ ভূমিতে পরিণত” শিরোনামে ২০০৭ সালে আমাদের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদী ভাই পপত্রিকায় লিখেছিলেন। পরবর্তীতে জেলা সমন্বয়সভায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক সোলতান আহমেদ জেলা পরিষদকে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরী করার জন্য বললে এই স্মৃতি স্তম্ভ নির্মিত হয়। আর পুর্বের স্তম্ভটি সম্প্রতি ভেঙ্গে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদের অর্থায়নে গণপুর্ত অধিদপ্তর অত্যাধুনিক মানের বিশাল স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করছে।
শহীদ নবী হোসেনের পুত্র আক্তারুজ্জামান রিপন বলেন, শিল্পমন্ত্রী শহীদ সৈয়দ নজরুল সাহেব মহিনন্দের শোলমারা সংলগ্ন ক্ষিরদগঞ্জ বাজার মাঠের কাছে কবর স্থানে আমার পিতা শহীদ নবী হোসেনের কবরও জিয়ারত করেছিলেন। সেই সময়ে নজরুল সাহেবের সাথে ছিলেন কিশোরগঞ্জের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আমার ভাই বীরমুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান কমরু। শুধু তাই না জেলা পাবলিক লাইব্রেরির সাবেক লাইব্রেরীয়ান মহিনন্দ ইউনিয়নের সাবেক রিলিফ চেয়ারম্যান আ.মজিদ সাহেবের বাড়িতেও সেসময়ে রাষ্ট্রীয় সফরসুচিতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এমন নেতা বাংলায় বিরল।
মহিনন্দের মানুষকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তার পুত্র এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ভালোবাসেন এবং উন্নয়ন দৃষ্টি রাখেন। মহিনন্দবাসীও জাতির এই কীর্তিমানদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সব সময়। যেটির বাস্তব উদাহারণ হলো মহিনন্দের বিভিন্ন উন্নয়ন অবকাঠামো। বিশেষ করে শোলমারায় উন্নয়ন অবকাঠামো নির্মাণ। ইতিহাসের পরষ্পরায় এতদাঞ্চলের মানুষকে গুনী ব্যক্তিদের প্রজন্মরাও ভালোবেসে আসছেন। যার প্রমান মিলে মহামান্য রাষ্টপতিপুত্র রাসেল আহমেদ তুহিন মহিনন্দের অনেক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ। অপরদিকে সৈয়দ আশরাফের চাচাতো ভাই সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুও মহিনন্দের অনেক উন্নয়ন অবকাঠামোতে অবদান রেখে আসছেন।
মহিনন্দ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মনসুর আলী জানান, সৈয়দ টিটু ভাইয়ের অবদানেই মহিনন্দের অনেক রাস্তাঘাট সেসময়ে এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের সানুনয় সহযোগিতায় বরাদ্দ পেয়েছিলাম। আমার চেয়ারম্যনকালীন সময়ে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করতে সহজতর হয়েছিলো।
বর্তমান মহিনন্দ ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২টি ঘর আমাদের মহিনন্দে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আমার সময়েই বিগত ২০০৩-১১ সালে মহিনন্দকে মডেল ইউপি গড়ে তোলেছিলাম। আর সে ইউনিয়নের শোলমারায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি আইটি সেন্টারের যে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে গেলেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে। গত ২৬ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আমাদের মহিনন্দের ৩২টি গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয়ন ঘর প্রদান ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করে মহিনন্দকে আরও গর্বিত করেছেন।
মহিনন্দের ইতিকথা বইয়ের ১৩৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল জাতীয় সংসদের ডেপুটী স্পীকার অ্যাডভোকেট মোঃ আবদুল হামিদ ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মহিনন্দ নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। যার ফলে বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্তকরণের পথ সুগম হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন ডেপুটী স্পিকার আজকের বালাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সুপারিশক্রমে বিদ্যালয়টি ২৪/৪/২০০০ সালে এমপিওভূক্তি হয়। বর্তমানে সে নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি একটি পুর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রুপ নিয়েছে এবং জাতীয়করণ হয়ে অত্যাধুনিক বহুতল ভবন নির্মিত হয়ে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। সে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মহামান্যার আশির্বাদপুষ্ট সদরের ভাইস চেয়ারম্যান আ.সাত্তার।
মহিনন্দের প্রতি অন্যরকম টান রয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপুর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিদের। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ২০০৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর মহিনন্দের কলাপাড়া হাজী আ.গফুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় (যেখানে দাখিল পড়েছিলাম) মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তৎকালীন স্পীকার মোঃ আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেই স্মৃতিময় মহিনন্দের শোলমারায় উন্নয়নের ভাবনায় শেখ কামাল আইটি সেন্টার বাস্তবায়ন। শুধু তাইনা তিনিযে মহিনন্দকে ভালোবাসেন তার আরও একটি নজীর হলো যে ২০১০ সালে আমি যখন মহিনন্দের ইতিকথা বইটি লিখি সেসময়ে তাঁর স্মরনাপন্ন হলে তিনি বইটি লিখাতে আমাকে উৎসাহিত করেন এবং বইটিতে বাণী দিয়ে কৃতার্থ করেন। যা কখনো ভোলা যায় না। আর সে সুবাদেই তিনি কিশোরগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ করে মহাবীর ইসা খানের স্মৃতি বিজড়িত জঙ্গলবাড়ি ও কবি চন্দ্রাবতীর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি দুটি জাদুঘর নির্মাণে এগিয়ে এসেছিলেন। বাড়ি দুটি জাদুঘরে রুপান্তর করা হোক দাবী জানিয়ে মহামান্যর কাছে ২০১৮ সালে আমি একটি পত্র লিখেছিলাম। পরে তিনি পত্র মারফত তৎকালীন সংস্কৃতি সচিবের কাছে বাড়ি দুটি জাদুঘর নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তৎপ্রেক্ষিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ধীন প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের ডিজি কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তান মোঃ হান্নান মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল বাড়ি দুটি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দিলে জাদুঘর রুপে নির্মাণের জন্য প্রথমেই জঙ্গলবাড়ির ৯ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ পায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে। এতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে ১৫ কোটি টাকার একটি চেকও দেওয়া হয়। বর্তমানে জঙ্গলবাড়িতে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।
এরকম ইতিহাস ঐতিহ্যময়ং মহিনন্দের একজন বাসিন্দা হিসেবে নিজের কাছে গর্বিত মনে করি। এই গর্ব অব্যাহত থাকুক যুগ যুগান্তরে।

 

লেখকঃ আমিনুল হক সাদী

সভাপতি-যুব উন্নয়ন পরিষদ,

কিশোরগঞ্জ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana