শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কুলিয়ারচরের ফরিদপুরে খালটের রাস্তার দুইপাশ দখলদারদের কবলে কটিয়াদী সরকারি কলেজে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান গ্রামের বাজারে কচুর লতি বিক্রি করে ভাইরাল অধ্যাপক হোসেনপুরে ট্রাক্টর চাপায় শিশুর মৃত্যু বাবার রাজনৈতিক আদর্শে উদ্বেলিত হয়ে যুবদল থেকে সরে দাড়ালেন পুত্র শাহীন পাকুন্দিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু করিমগঞ্জে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক প্রধানমন্ত্রীই পারেন জনগণের সকল প্রত্যাশা পুরণে -কিশোরগঞ্জে চিত্র নায়ক কাঞ্চন পাকুন্দিয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু সাংবাদিক শিরিন হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জে ঝুকি নিয়ে রেললাইন পারাপার

কিশোরগঞ্জে ঝুকি নিয়ে রেললাইন পারাপার

ইমরান হোসেন, বার্তা প্রধান:
কিশোরগঞ্জ শহরের একরামপুরে নরসুন্দা নদীর উপর রেললাইন বয়ে যাওয়ায় নদীর এপার থেকে ওপারে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে কয়েক হাজার পথযাত্রী। নদীর দু’পারে কোন বিপদ সংকেত না থাকায় এসব পারাপারে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। রেলষ্টেশন থেকে নদীর উপরে অন্য একটি ব্রীজ আধা কিলোমিটার দূরত্ব হওয়ায় সময় বাঁচাতে জীবনকে বাজি রেখে তারা রেললাইনের উপর দিয়ে পার হচ্ছেন। সোমবার (২৫ এপিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশু থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত নদীর এপার থেকে ওপারে একের পর এক পার হচ্ছেন। পার হওয়ার সময় কেউ কেউ মুখো মুখি ধাক্কা লাগার ঘটনাও ঘটে। আবার কেউ কেউ মাঝ পথে গিয়ে থমকে যায়। রেললাইনের দুই স্লিপারের মধ্যে ফাঁকা থাকায় চোখের দৃষ্টি একেবারে নিচে চলে যায়। বিশেষ করে যারা হার্টের রোগী এবং যাদের শরীর দুর্বল; তারা নিচের দিকে তাকালে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি অকাল মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অন্য দিকে যাদের এ ধরণের পারা পারে অভ্যাস নেই; তাদের মাঝ বরাবর গিয়ে হাত পা কাপতে থাকে। এভাবেই দিনের পর দিন ব্যবহার করে আসছে এই রেললাইনটি। অন্য দিকে একরামপুর বাসষ্ট্যান্ডের উপর সড়কের মাঝে রেললাইন থাকায় এখানে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের কারণে রেল লাইনের উপরে বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের জট লেগে থাকে। যানজট থাকাবস্থায় রেল আসলে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা আরো জানান, এটি শহরের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রেল ক্রসিং। এখান দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। পাশাপাশি এসব এলাকা থেকে কাজ শেষে প্রতিদিন তারা আবার নিজ বাড়িতে ফিরেন এ রেললাইন পার হয়ে। কিন্তু এ রেললাইনের দু’পারে নেই কোনো গেটম্যান বা সিগন্যাল বার। এসব রেললাই পার হতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয় অনেকেরই।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর রেল দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ মানুষ মারা যায়। হতাহতের সংখ্যা প্রায় ২৫০ জনের মতো। কিন্তু চোখের সামনে এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও সচেতনতা তৈরি হয়নি মানুষের মাঝে। রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, রেলপথের দুই পাশে ১০ ফুট এলাকায় চলাচল আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওই সীমানার ভেতর কেউ প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতারের বিধান রয়েছে। এমনকি ওই সীমানায় গবাদিপশুও প্রবেশ করলে তা বিক্রি করে এর অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিনা পরোয়ানায় দায়ী ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রাখে।
এ ব্যাপারে রফিক নামের একজন পথচারীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নদীর ওপার থেকে এসেছি। চামড়া ঘাট যাব, হাতে সময় নেই তাই বাধ্য হয়ে রেললাইন পার হচ্ছি। মানুষ দ্রুত পার হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে পার হতে চায়। আর এ তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে নানা ধরনের দুর্ঘটনা।’
মো: রহিম নামের একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা জানান, আমি ওপারে যাব, হাতে সময় নেই। একরামপুর, পুরান থানা সবসমই যানজট লেগে থাকে। আমার পুরান থানা দিয়ে যেতে আধাঘন্টা সময় লাগবে। আর আমি রেললাইন দিয়ে ২ মিনিটে পার হতে পারি। কিন্তু করার কিছু নাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছি।
এ বিষয়ে পথচারী দিলীপ কুমার বলেন ব্রীজে উঠতে সাহস হয় না। চার-পাঁচ কদম আগালেই মাথা ধুরে। অনেক সময় সামনেও আগাতে পারি না ছিনেও পিছতে পারি না। কিন্দু হাতে সময়ে না থাকার কারণে বাধ্য হচ্ছি ব্রীজ পার হতে।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইউসুফ বলেন, ‘বিষয়টি আমারও অনেক দিন দৃষ্টি গোচর হয়েছে। আসলে এ রেল লাইন দিয়ে পারাপার সত্যিই বিপজ্জনক। কিন্তু আমাদের তরফ থেকে ঐ রেললাইনের উপরে পথচারীদের পারাপার নিষিদ্ধ। আর এখানে বিকল্প ব্রীজ নির্মাণ করা একান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। তবে আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।’

 

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana