শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
অবৈধভাবে তিন হাজার টিকিট বিক্রি, গ্রেফতার ‘সহজ’ প্রকৌশলী

অবৈধভাবে তিন হাজার টিকিট বিক্রি, গ্রেফতার ‘সহজ’ প্রকৌশলী

গত ৬ বছর ধরে রেলওয়ে অনলাইন টিকিট সার্ভারের সঙ্গে জড়িত রেজাউল করিম। এর ফলে অনলাইন টিকিটের সার্ভারে অবাধ এক্সেস ছিল তার। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতি ঈদ মৌশুমে ২-৩ হাজার টিকিট অবৈধভাবে সরিয়ে নিতেন রেজাউল। আর এসব টিকিট ১০-১২ লাখ টাকা প্রতি মৌশুমে বিক্রি করতেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।
তিনি জানান, গতকাল (২৭ এপ্রিল) এসব অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সহজ ডটকমের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিমকে (৩৮) আটক করে র‍্যাব-১। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতেই বিমানবন্দর স্টেশন থেকে একই অভিযোগে তার সহযোগী এমরানুল আলম সম্রাটকে (২৮) আটক করা হয়। এ সময় তাদের স্মার্টফোন থেকে অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ ট্রেনের ই-টিকিট জব্দ করা হয়।
লেফটেনেন্ট আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিটের বিপুল চাহিদা থাকে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করে আসছিল একটি চক্র। অধিকাংশ মানুষই অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে সকালে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, এমন অভিযোগে র‍্যাব-১ এর গোয়েন্দাদল কমলাপুর স্টেশন থেকে সহজ ডটকমের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে তার দেওয়া তথ্যে টিকিট কালোবাজারির বিষয়টি নিশ্চিত হয় র‍্যাব। পরে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগী এমরানুলকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১ এর কর্মকর্তা বলেন, রেজাউল গত ৬ বছর ধরে ট্রেনের টিকিটিংয়ের সঙ্গে জড়িত। সহজ ডটকমের আগে অনলাইনে টিকিট বিক্রির দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠান সিএনএস বিডিতেও কর্মরত ছিলেন তিনি। অভিজ্ঞ কর্মী হিসেবে সহজ ডটকম তাকে নিয়োগ দেয়। রেজাউল প্রতি ঈদে প্রায় ২-৩ হাজার অনলাইন টিকিট অবৈধ উপায়ে সরিয়ে নিতেন। আর এসব টিকিট কালোবাজারিতে বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মৌশুমে আয় করতেন ১০-১২ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, পরিচিতজনদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা লাভে টিকিট বিক্রয় করতেন রেজাউল। এছাড়া, অন্যদের কাছে নির্ধারিত দামের চেয়ে ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা বেশি দামে টিকিট বিক্রি করতেন। তার দাবি, রেলওয়ের বিভিন্ন ভিআইপিদের টিকিটের আবদার মেটানোর সুযোগে নির্বিঘ্নে তিনি এই কাজ করে আসছিলেন।
লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, রেজাউল পরিচিতজনদের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে টিকিট প্রত্যাশীদের একটি বড় শ্রেণি গড়ে তুলেছেন। এর বাইরেও কালোবাজারিতে তার টিকিট বিক্রেতা রয়েছে। সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুবাদে সার্ভার থেকে টিকিট বুক করে কিনে নিতেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তার এই সংক্রান্ত বিভিন্ন যোগাযোগ চলতো বিভিন্ন অ্যাপসে। আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে লেনদেন করতেন নগদ অর্থে। তাকে আটকের মধ্য দিয়ে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির একটি বিষয় উন্মোচিত হয়েছে বলে দাবি করেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana