সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে ৩১ তম আন্তর্জাতিক ২৪ তম প্রতিবন্ধী দিবস উদযাপিত ভৈরবে ফসল রক্ষা বাধ ও ফসলি জমি কেটে ইট ভাটায় ব্যবহার হচ্ছে মাটি॥ হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট সদস্যদের না জানিয়ে প্রহসনের   নির্বাচনের পাঁয়তারার অভিযোগ বিএনপি-জামায়াত মিথ্যাচার করছে তাদের ফাদেঁ পা দিবেন না: ভৈরবে বিসিবি সভাপতি পাপন তামিম ইকবালের পরিবর্তে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন দাস কুলিয়ারচরে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন অবহেলার দায়ে ১৩৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা বিজয় টিভি ভৈরব প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক সোহানুর রহমান সোহান বিশ্বকাপ আয়োজনে ৪০০-৫০০ শ্রমিকের মৃত্যুর কথা স্বীকার কাতারের অনেক সাংবাদিক সঠিকভাবে না জেনে লেখা প্রকাশ করেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কুলিয়ারচরের কৃতি সন্তান খান সাহেব এ.এফ.এম নুরুল্লাহ’র ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কুলিয়ারচরের কৃতি সন্তান খান সাহেব এ.এফ.এম নুরুল্লাহ’র ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মোঃ মাইন উদ্দিন, কুলিয়ারচর প্রতিনিধি :

সেবার স্বীকৃতি স্বরুপ ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক “খান সাহেব” উপাধিতে ভুষিত হওয়া কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার কৃতি সন্তান শিক্ষানুরাগী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জননেতা ও প্রখ্যাত সমাজ সেবক মরহুম খান সাহেব এ.এফ.এম নূরুল্লাহ’র ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। অর্ধ-শতাব্দীকাল যাবৎ জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগনের সঙ্গে নিবিরভাবে মাঠ পর্যায়ে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করার পর ১৯৮৪ সালের এই দিনে ২৭শে এপ্রিল, বাংলা ১৩৯১ সনের ১৪ই বৈশাখ ৮৪ বছর বয়সে ঢাকার বাড়িতে তিনি এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকগমন করেন। পর দিন দাফনের পর ২৮শে এপ্রিল নিজ জন্মভূমি কুলিয়ারচরে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন। মরহুম মৌলভী এ,এফ,এম নূরুল্লাহ খান বাংলা ১৩০৭ সালের ৪ ভাদ্র ও ইংরেজী ১৯০০ সালে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার খড়কমারা গ্রামে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মৌলভী আব্দুস সবোর। মরহুমের ৬ষ্ঠ ছেলে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নূরুল মিল্লাত তাঁর বাবার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর নিকট দোয়া কামনা করেছেন। জানা যায়, মরহুম মৌলভী এ.এফ.এম নূরুল্লাহ খান স্থানীয় পাঠশালায় তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করে ঢাকা মাদ্রাসা হইতে জামাতে উলা। ১৯২২ সালে নিউ স্কিম মাদ্রাসা পাঠ্যক্রমানুসারে বিশেষ প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তির্ণ। ১৯২৪ সালে ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ হইতে প্রথম বিভাগে আই এ পাশ করেন। ১৯২৭ সালে ঢাকা ইসলামিক ষ্ট্যাডিস বিভাগে অনার্সে উচ্চতর দ্বিতীয় শ্রেণি লাভ করেন। সরকারী চাকুরীর মোহ ত্যাগ করে সমাজ সেবার ব্রত নিয়ে গ্রামেই অবস্থান করেন তিনি। ১৯২৮ সাল হইতে তাঁতারকান্দি এম ই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৩৭ সালে স্কুলটিকে হাই স্কুলে রুপান্তর করেন এবং ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে তাহারই উদ্যোগে স্কুলটি কুলিয়ারচর হাই স্কুল নামকরন করা হয়। বর্তমানে স্কুলটি কুলিয়ারচর সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত হয়। ওই স্কুলে তিনি ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মরহুম মৌলভী এ.এফ.এম নূরুল্লাহ খান ১৯২৯-১৯৭১ সাল পর্যন্ত টানা ৪২ বছর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কুলিয়ারচর ইউনিয়ন বোর্ড, কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৩০ সাল হইতে বিলুপ্তি পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ লোকাল বোর্ডের সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলা বোর্ডের সদস্য ছিলেন একটানা ২২ বছর। মনোনীত সদস্য ছিলেন ১৯৩২ হইতে ১৯৪৫ সাল আর নির্বাচিত সদস্য ছিলেন ১৯৪৫ হইতে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত। ১৯৫১ হইতে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত পদাধিকার বলে কুলিয়ারচরের প্রথম সাবরেজিস্টার ছিলেন তিনি। ১৯৩৭ হইতে বিলুপ্তি পর্যন্ত কুলিয়ারচর ঋণ সালিসী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাজিতপুর বিশেষ ঋণ সালিসী বোর্ডের সদস্য ছিলেন। মরহুম মৌলভী এ.এফ.এম নূরুল্লাহ খান ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি জামিয়া আরাবিয়া নুরুল উলূম কুলিয়ারচর মাদ্রাসা (১৯৪০) এবং সভাপতি কুলিয়ারচর দশ গম্বুজ জামে মসজিদ কমিটি। ১৯৩৭ হইতে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা স্কুল বোর্ডের সদস্য। ১৯৩৪ সালে কুলিয়ারচর বাজার হইতে পতিতালয় উচ্ছেদ উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন করেছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট সমবায়ী প্রতিষ্ঠাতা-ডাইরেক্টর কিশোরগঞ্জ মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, প্রতিষ্ঠাতা- ভাইস চেয়ারম্যান ময়মনসিংহ জেলা মৎসজীবি সমবায় সমিতি লিঃ, ডাইরেক্টর ময়মনসিংহ ল্যান্ড মর্টগেজ ব্যাংক লিঃ, ডাইরেক্টর ইস্ট পাকিস্তান কো-অপারেটিভ ইনস্যুরেন্স কম্পানী লিঃ, সদস্য গভর্নিং বডি কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ। সদস্য পাকিস্তান কেন্দ্রীয় পাট কমিটি (১৯৫১-১৯৫৪)। সদস্য, পূর্ব পাকিস্তান ওয়াকর্ফ বোর্ড (১৯৬২-১৯৬৩)। মনোনীত সদস্য ঢাকা বিভাগীয় কাউন্সিল (১৯৬১-১৯৬৫) এবং নির্বাচিত সদস্য (১৯৬৫-১৯৭০)। সদস্য, পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশিক পরিষদ(১৯৬২-১৯৬৫)। অর্থ দপ্তরের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারী (১৯৬২-১৯৬৫)। সভাপতি কুলিয়ারচর থানা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ মনোনীত আইন সভা সদস্য পদপ্রার্থী। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ মনোনীত জাতীয় পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থী। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় খান সাহেব জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ও বিশেষ করে কুলিয়ারচরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জান মালের নিরাপত্তা বিধানে বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করেন। ১৯৭৯ হইতে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত হাওর উন্নয়ন পরামর্শক কমিটির সদস্য। ১৯৭৯-১৯৮১ সালে সদস্য ময়মনসিংহ জেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। কুলিয়ারচরে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তক। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে সরকারীভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন। কুলিয়ারচর পনির কারখানা, বাদাম মিল, যান্ত্রিক চাষাবাদের কার্যালয় স্থাপন (বি,এ,ডি,সি) ও ছয়সূতীতে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করেন তিনি। ত্রিশ দশকের গোড়া হতে এতদ অঞ্চলে শরীয়ত ও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপে জিহাদী ভুমিকায় অবতীর্ণ হন এবং জনগনের সমর্থন নিয়ে এই সব গর্হিত কাজ হতে সমাজকে বিরত রাখার সংগ্রামে জয়ী হন। ১৯৪৫ সালে সমাজ সেবার স্বীকৃতি স্বরুপ ব্রিটিশ সরকার হতে “খান সাহেব” উপাধিতে ভুষিত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০২ সালের ১০ই এপ্রিল, কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বাড়িয়াকান্দি কান্দিগ্রাম থেকে কুলিয়ারচর বেইলি ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক “খান সাহেব মৌলভী এ.এফ.এম নুরুল্লাহ সড়ক” নামকরণ করা হয়। তৎকালীন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান ও কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী উক্ত রাস্তার নামফলক উন্মোচন করেন।

দিনটি উপলক্ষে আজ ২৭ এপ্রিল বুধবার বাদ আছর মরহুমের পরিবারের পক্ষ হইতে গ্রামের বাড়ি কুলিয়ারচর পৌর এলাকার খড়কমারা গ্রামে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana