রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

ঈদকে সামনে রেখে ভৈরবে ভেজাল ও নকল শিশু খাদ্য সয়লাব স্বাস্থ্য ঝুকিঁতে শিশুরা

ঈদকে সামনে রেখে ভৈরবে ভেজাল ও নকল শিশু খাদ্য সয়লাব স্বাস্থ্য ঝুকিঁতে শিশুরা

এম.এ হালিম, বার্তা সম্পাদক:

ঈদকে সামনে রেখে ভৈরবে অবাধে তৈরী হচ্ছে নকল ও ভেজাল শিশু খাদ্য। শিশু-কিশোরদের পছন্দনীয় চটকদার নাম দিয়ে ও রং বেরংয়ের প্যাকেট করে ভেজাল খাদ্য বাজারজাত করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা । বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানীর আইসক্রিম, আইস-চিপস,ললিপপ, ডানোর গুড়া দুধ, হরলিক্স,ও সেমাইসহ নানা পণ্য উৎপাদিত হয়। আর এসব ভেজাল খাদ্য খেয়ে মরণব্যাধি ক্যান্সার, লিভার,কিডনীসহ জটিল রোগে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
ভৈরবে সম্প্রতি জগন্নাথ পুর লক্ষী পুর, চন্ডিবের ও কমলপুরে ভেজাল ও নকল শিশু খাদ্য তৈরীর কারখানা গড়ে উঠেছে। আনুমানিক ১০টি কারখানায় কমপক্ষে শিশু খাদ্যের নকল ও ভেজাল ৩০টি আইটেম উৎপন্ন হয়ে থাকে। তবে বিভিন্ন কারখানায় অতি মুনাফা লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্য ঝুকিঁ নিয়ে কোমলমতি শিশুদের দিয়ে এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন করছে।
অটোমেটিক মেশিনে তৈরী করা হয় নামিদামি ব্র্যান্ডের ভেজাল খাদ্য সামগ্রী। বিভিন্ন কোম্পানীর জুস,চিপস, আইক্রিম, হরলিক্স, ডানোর গুড়া দুধ, ললিপপ বিভিন্ন প্রকার আকর্ষনীয় চকলেট তৈরী করা হয়। এসব তৈরী করা হয় বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামের সাথে মিল রেখে এসকল পণ্য তৈরী করা হয়।আসল কিনা নকল বুঝার কোন উপায় নেই। এসব সামগ্রী ভৈরবে বাজারজাত করে বিক্রি করে আসছে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী। তবে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা না করায় বা আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় দিনে দিনে বিভিন্ন কারখানা গড়ে উঠেছে । দেদারছে ভোজাল ও নকল শিশু খাদ্য তৈরী করে অসাধু ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তাই চিরতরে এসব ভেজাল ও নকল শিশু খাদ্য উৎপাদন কারখানা বন্ধ করেবে প্রশাসন এমনটাই দাবি ভৈরববাসির ।

এ বিষয়ে টিভি ও নাট্যভিনেতা সাঈদুর রহমান বাবলু জানান, নি¤œমানের এসকল ভেজাল আইসক্রিম, আইস-চিপস,ললিপপ, ডানোর গুড়া দুধ, হরলিক্স তৈরী হচ্ছে ভৈরবের বিভিন্ন কারখানায় । এসকল পণ্য খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে । তাই এসকল পণ্য তৈরীর কারখানা বন্ধ কওে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান প্রশাসনের কাছে । একই কথা বললেন, বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোঃ শহীদুল্লাহসহ অনেকেই ।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ জানান, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালিকা টানানো আছে কি না সেটি মনিটরিং কওে মোবাইল কোর্টেও মাধ্যমে জরিমানা ও সতর্ক করা হচ্ছে । এছাড়া ভেজাল বিরোধূ অভিযান ও পরিচালনা করা হবে ।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল আহমেদ বলেন, রং মিশ্রিত, ফরমালিন বা ক্যামিক্যাল যুক্ত ভেজাল ও নকল খাদ্য খেয়ে শিশুরা দীর্ঘ মেয়াদী মরণব্যাধি ক্যানসার, কিডনি,লিভারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে মারা যেতে পারে । তাই এসব ভেজাল ও নকল খাবার যাতে না খায় সেজন্য ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা ও সচেতনতা তৈরী করতে হবে ।
এ বিষয়ে ভৈরব পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা নাসিমা বেগম বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার ( ভ’মি) এর সাথে কথা বলতে ।
নিরাপদ শিশু খাদ্য নিশ্চিত করা সকল শিশুর অধিকার। শিশুদেরকে সুস্থ্য ও মনন বিকাশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। নকল শিশু খাদ্য সয়লাব থেকে ভৈরবকে মুক্ত করা সকলের প্রত্যাশা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana