শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন

গুরমার হাওরে বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ, ঝুঁকিতে ফসল

গুরমার হাওরে বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ, ঝুঁকিতে ফসল

একুশে ডেস্ক :
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার গুরমার হাওরের বর্ধিতাংশের বাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে ওই হাওরের প্রায় ৬০ হেক্টর ফসলি জমি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ারের পাশের অংশের বাঁধটি ভেঙে যায়।
কৃষি অফিস জানায়, বর্ধিত গুরমা হাওরে তাহিরপুর উপজেলা অংশে প্রায় ৬০ হেক্টর জমি। হাওরে পানি ঢোকার ফলে এখানে জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
জানা গেছে, গুরমা এক্সটেনশন বাঁধে এবার ১৩টি পিআইসি কাজ করেছে। বরাদ্দ ছিল প্রায় আড়াই কোটি টাকা। রোববার সকালে হঠাৎ করে বাঁধের একাংশ দেবে যায়। এ সময় বাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। হাওরে পানি প্রবেশ শুরু হলে বাঁধরক্ষার চেষ্টা ছেড়ে কৃষকরা হাওরের দিকে ছুটতে থাকেন। জমিতে থাকা পাকা ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করেন তারা। তবে সেই চেষ্টা বৃথা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে বাঁধ ভেঙে পানিতে ভেসে যায় হাওর।
জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বাঁধটি রক্ষায় ১৫ দিন ধরে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সবাই দেখভাল করছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন অন্য বাঁধগুলো রক্ষার চেষ্টা করছি।
ভারতের মেঘালয় ও সিলেট এর সীমান্ত এলাকায় বৃষ্টিপাতের ফলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ে ৭০ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই বৃষ্টির পানি সুরমা নদীতে এসে মিলিত হয়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সিলেটের সীমান্ত এলাকায় শনিবার রাতে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে আরো পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুরের প্রায় ৩০ টি ফসলরক্ষা বাঁধ উচ্চ ঝুকির মধ্যে আছে। পানি আরো বৃদ্ধি পেলে যেকোন সময় বাঁধ ধ্বসে গিয়ে ফসলহানীর হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
গত পহেলা এপ্রিল থেকে উজানের ঢল অব্যাহত ছিলো ৭ এপ্রিল পর্যন্ত। সেই ঢলের পানি এখনো নদী থেকে নামেনি। এর মধ্যে নতুন করে পানি বাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ফসলরক্ষা বাঁধগুলো আরো উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। তাহিরপুর উপজেলার বৃহৎ শনির হাওরে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এই হাওরের বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার রয়েছে এর মধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার সংলগ্ন
গুরমা বর্ধিতাংশের ফসল রক্ষা বাঁধ।
শনিবার রাতেই কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কেটেছে অনেক কৃষক। শনির হাওর পাড়ের বড় কৃষক দিপক তালুকদার বলেন, হাওরের বাঁধগুলো দেখেছি খুবই ঝুঁকিপুর্ণ। যেকোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করতে পারে। তাই আমিসহ আমার গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও দিনে রাতে ধান কেটে নিচ্ছি। তিনি বলেন, কাচা ধান কাটতে যদিও খুব কষ্ট হচ্ছে। তারপরও ডুবে যাওয়ার চেয়ে কেটে নেওয়াই ভালো মনে করছি।
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারে কাজ করছে প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় কৃষকরা। সারাদিন মাঠে ধান কাটার পর সারারাত বাঁধে কাজে সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। গত ১৫ দিন ধরেই বাঁধের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন প্রশাসন ও স্থানীয় জনগন।
হাওরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে ঝুঁকিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে দ্রুত ধান কাটার জন্য। কিন্তু হাওরে বেশিরভাগ জমির ধানই এখনো পরিপক্ক হয়নি। তাই অপরিপক্ক ধান কেটে শ্রমীকের খরছ বাড়াতে আগ্রহী নন কৃষকরা। কবে বিচ্ছিন্নভাবে সবকটি উপজেলায় কাচা পাকা ধানই কাটছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ১৮ শতাংশ ধান কাটা করা হয়েছে। সুনামগঞ্জে এ বছর ২ লক্ষ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এখনো আরো ২ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধান রয়েই গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, পানি বাড়ছে নদীর। তাই এই পানি হাওরের বাঁধে আঘাত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন মেঘালয়ে যদি আরো বেশি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে বাঁধ টেকানো কঠিন হয়ে যাবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana