বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

৫৩ ও ৮০ রান অ্যালার্মিং নয়!

৫৩ ও ৮০ রান অ্যালার্মিং নয়!

একুশে ডেস্ক:
নিউজিল্যান্ডে বছরের শুরুতে মাউন্ট মঙ্গানুই রূপকথার পর প্রত্যাশা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়ও টেস্ট সিরিজে দারুণ কিছু করবে বাংলাদেশ। তার আগে দেশটিতে ইতিহাস গড়ে ওয়ানডে সিরিজ জয় বাড়িয়ে দেয় প্রত্যাশার পরিধি। কিন্তু দুই টেস্টের সিরিজে সেই প্রত্যাশা পূরণের ধারেকাছেও যেতে পারেনি মুমিনুল হকের দল। ডারবানের পর পোর্ট এলিজাবেথেও তারা দেখেছে বড় হার। দুই টেস্টেরই শেষ ইনিংসে টাইগার ব্যাটারদের পারফরম্যান্স ছিল তথৈবচ, লজ্জাজনক। ডারবানে ৫৩ রানে অলআউট হয়ে ২২০ রানের হার মেনে নেওয়ার পর পোর্ট এলিজাবেথে ৮০ রানে অলআউট হয়ে টাইগাররা দেখে ৩৩২ রানের বড় হার। দলের এমন বিপর্যয়ে অনেকেই শঙ্কিত। তবে অধিনায়ক মুমিনুল বিষয়টাকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতেই দেখছেন। তার মতে, ৫৩ আর ৮০ রানে অলআউট হওয়া ভীতিকর কিছু নয় আর এটা অ্যালার্মিং নয় দলের জন্যও!
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বরাবরই এক দুঃস্বপ্ন টাইগারদের জন্য। আগের তিন সফরে ছয় টেস্ট খেলে ৫টিতেই ইনিংস ব্যবধানে হার দেখেছিল তারা। এবারের দুই টেস্টেও জুটেছে বড় হার। ডারবানে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯ ওভারে ৫৩ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জার পরও কিছুটা লড়াই গড়া গিয়েছিল, পোর্ট এলিজাবেথে সেটার ছিটেফোঁটাও লক্ষ করা যায়নি। প্রথম ইনিংসে টেনেটুনে ২১৭ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩.৪ ওভারে ৮০ রানে অলআউট। সেই ২০০৭ সালের পর এবারই প্রথম টানা দুই টেস্টে ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো টাইগাররা। দেশের ক্রিকেটের জন্য এটা বিব্রতকরই। কিন্তু বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলপতি মুমিনুলের কথায় তেমন কিছুই টের পাওয়া গেল না।
কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরছে টাইগাররা। এদিন প্রথমভাগে দলের সঙ্গে এসেছেন মুমিনুল। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি যা বললেন, তার মর্মার্থ- দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫৩ আর ৮০ রানে অলআউট হওয়া যেমন দেশের ক্রিকেটকে শেষ করে দেয়নি, তেমনি নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জেতাটাও পাল্টে দেয়নি বাস্তবতা। বাংলাদেশের টেস্ট দল আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনি আছে- মুমিনুল এমনটাই বললেন, ‘অ্যালার্মিং না (দুবার ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়া), এটা আমার পর্যবেক্ষণ। এমনটা কিন্তু অনেকবারই হয়েছে, বাংলাদেশেও কিন্তু হয়েছে। আপনাদের হয়তো প্রত্যাশা বেশি ছিল। অনেকেই মনে করছেন একটা টেস্ট জিতে আমরা হয়তো বিশ্বের এক বা দুই নম্বর দল হয়ে গেছি। ওয়ানডেতে তো আমরা অনেক স্থিতিশীল দল, টেস্টে না। সেটাও আমাদের বুঝতে হবে। (টেস্টে) কিছুই নড়বড়ে হয়নি।’
তবে টেস্টে যে আরও অনেক উন্নতি করতে হবে, সেটা অকপটেই মেনে নিলেন মুমিনুল। টাইগার দলপতি আরও বললেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যে ভুলটা করেছি, এই ভুলটা যেন পরবর্তী সিরিজে না করি।’ আগামী মাসে পরবর্তী সিরিজে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে মুমিনুলের দল। হতাশা কাটিয়ে সেখানে দল ভালো কিছু করবে বলেই বিশ্বাস টাইগার অধিনায়কের, ‘এটাই তো প্রথম নয়, আমরা আগেও এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছি, বেরও হয়েছি। আমরা জানি এখান থেকে কীভাবে বের হতে হবে।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana