শুক্রবার, ০১ Jul ২০২২, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক মাসে কার কী অর্জন?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক মাসে কার কী অর্জন?

একুশে ডেস্ক:

২৪শে ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পর রুশ সেনারা প্রতিবেশি দেশটির ভেতরে ঢুকে পড়ে।

যুদ্ধের এক মাসের মাথায় এসে জানা যাচ্ছে, ইউক্রেনের সেনারা কোথাও কোথাও রুশ বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং রাজধানী কিয়েভের কাছে কিছু এলাকায় তারা পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিয়েভের পশ্চিমে মাকারিভ শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে ওই শহরে তারা আবারও ইউক্রেনের পতাকা উড়াতে সক্ষম হয়েছে।

একজন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বিবিসিকে বলেছেন, ইউক্রেনের এই পাল্টা লড়াই-এর শক্তির কারণে রাশিয়া তার রণকৌশল পরিবর্তন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্রও বলেছেন যে, দেশটির দক্ষিণের কিছু কিছু অংশে ইউক্রেনের সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রের গতি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।

দক্ষিণের ছোট্ট একটি শহর ভজনেসেন্সকে ইউক্রেনের সৈন্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা রাশিয়ার সাঁজোয়া বহর ধ্বংস করে তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

ক্রিমিয়ার কাছে যে খেরসন শহরটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বপ্রথম রাশিয়ার দখলে চলে গিয়েছিল সেটি ফিরে পাওয়ার জন্য ইউক্রেনের সৈন্যরা তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে রাশিয়ার সৈন্যরা এখন উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে ‘দেশটির পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনের বাহিনীকে ঘিরে ফেলার উদ্দেশ্যে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলে থাকা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলার জন্য রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেনের উত্তর এবং দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসর হচ্ছে। মূলত খারকিভ এবং মারিউপোল থেকে অগ্রসর হচ্ছে রুশ সেনারা।
ইউক্রেনের সেনাদের ঘিরে ফেলছে রাশিয়া। তবে রাজধানী কিয়েভ দখল করার লক্ষ্যে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলে রুশ বাহিনীর হামলা এখন ‘স্থিতিশীল’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, পুনরায় বড় আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করার আগে রাশিয়ান বাহিনী সম্ভবত পুনর্গঠিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, রুশ সেনার ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমের বন্দর শহর ওডেসার পশ্চিমে মাইকোলাইভকে বাইপাস করার চেষ্টাও করে থাকতে পারে।

দক্ষিণের মারিউপোল শহরের ওপরেও রুশ বাহিনী তাদের গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার আক্রমণে এই বন্দর-শহরটি ইতোমধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

যুক্তরাজ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রুসির একজন বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেছেন, রাশিয়ার সৈন্যরা অগ্রসর হতে না পারার কারণেই তারা এর ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দৃশ্যত রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের বিভিন্ন অংশে অগ্রসর হতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা তাদের রসদ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং দক্ষিণের মারিউপোল শহরের চারপাশে তাদের শক্তিকে সংহত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া যদি মারিউপোল দখল করে নিতে পারে, তার পরে তারা তাদের সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র নতুন করে বিন্যস্ত করবে। প্রথমত সেটা হবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলে এবং তার পরে সম্ভবত উত্তর-পূবের খারকিভ শহরে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন ইউক্রেনের সৈন্যরা যেহেতু কিয়েভের কাছের শহর ইরপিন ও মাকারিভ থেকে রুশ সৈন্যদের হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে, সেকারণে রাজধানী কিয়েভ দখলে মস্কোর পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana