রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুক্তির দিশারী

বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুক্তির দিশারী

[দেশের মানুষকে তিনি ভালোবেসেছিলেন এবং বড় বেশি ভালোবেসেছিলেন। দেশের মানুষও তাঁকে ভালোবেসেছিল-আজও ভালোবাসে।]

একটি রাষ্ট্র যিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি যে এমনভাবে ঘাতকের অস্ত্রাঘাতে নিহত হবেন, কেউ কি কখনো তা ভেবেছিল? প্রবল আত্মবিশ্বাস আর দেশবাসীর প্রতি আস্থা হয়েছিল তাঁর কাল। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস, সেই আস্থা, সেই ভালোবাসাই কি তাঁর গুন ছিল না ? তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুকে অতিক্রম করে তাঁর গৌরবোজ্জ্বল জীবনের দিকে আজ যখন তাকাই, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত গুন ও বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য ও কর্মপন্থা আমাদের অভিভূত করে। বঙ্গবন্ধুর প্রথম যে গুন আমরা লক্ষ করি, তা তাঁর অদম্য সাহস।
এর অনেক দিন পরে, পাকিস্তান সরকার যখন পূর্ব বাংলায় নির্বাচিত মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রের শাসন জারি করে, তখন সদ্য মন্ত্রিত্ব হারানো শেখ মুজিবরের বাসভবনে পুলিশ হানা দেয় এবং তাঁকে না পেয়ে চলে যায়। ঘরে ফিরে এসে তিনি সে খবর পান। তৎক্ষণাৎ ঢাকার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে ফোন করেন তিনি। ‘আপনার ফোর্স আমার বাসায় এসেছিল, বোধ হয় আমাকে অ্যারেষ্ট করতে। তাদের পাঠিয়ে দেন, আমি এখন বাসায়।’ আত্মগোপনকারী বাম রাজনীতিবিদদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও তিনি আত্মগোপনের রাজনীতি নিজের বলে মনে করেননি। তাই আশ্চর্য নয় যে, মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তিনি রয়ে যান ধানমন্ডির বাড়িতে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সুযোগ দেন তাঁকে গ্রেপ্তার করতে।
এই অসীম সাহসের আরেক পরিচয়স্থল তাঁর ৭মার্চের ভাষণ। সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করতে প্রস্তুত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মরণাস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলতে অসামান্য সাহসের প্রয়োজন হয়। সে সাহস তাঁর ছিল। অবশ্য সেই সাহসের অনেকটাই তিনি সংগ্রহ করেছিলেন অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মানুষের তেজোদীপ্ত ও স্বত:স্ফুর্ত প্রতিবাদ থেকে।

১৯৫৬ সালের চীন ভ্রমণের পর সমাজতন্ত্রের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি হয়। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যতই সমৃদ্ধ হয়েছে, ততই তিনি সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকেছিলেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্র থেকে তিনি দূর করতে চেয়েছিলেন সকল প্রকার শোষণ-বঞ্চনা। তবে তা বাস্তবায়নের সময় তিনি পাননি।
বঙ্গবন্ধু বহু মানুষকে এবং তাদের পিতা বা পুত্রকে মনে রাখতে পারতেন। এ ক্ষমতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ছিল, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ছিল, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রজন্মের আর কারও ছিল না। তাইতো বোধহয়, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের কাছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন জ্যোতির্ময় হয়ে এবং চিরজীবী হয়ে থাকবেন।

শাফায়েত জামিল রাজীব
প্রধান সম্পাদক, একুশে টাইমস্

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana