মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

মেঘলা আকাশ

প্রথম পর্ব:
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁয়ের এক ইউপি মেম্বার জিন্নাটুপি আর গালে কয়েকটি ছাগলদাড়ি নিয়ে ইসলামের ফতুয়াকে বিকৃত করে- অদ্যাবধি পর্যন্ত ১৫৬টি বিয়ে করে ফেললো। মেম্বার আবুল হোসেন সাহেব ৫৮ বছর বয়সেও ভীষন রমনীমোহন। আর উনার উর্দু, ফার্সি আর সংস্কৃত ভাষার উপর বিভিন্ন শ্লোক, খনারবচন আর উনার প্রতিপত্তিকে ব্যবহার করে প্রথমে কাবু করত অভিভাবক বৃন্দকে। তারপর অঁজপাড়া গায়ের মালেকা-ছালেকাদেরকে উনার জালে ফাঁসাত। এভাবে ক্রমান্বয়ে মেম্বার আবুল হোসেন ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক দর্জাল ৪ স্ত্রীকে বাড়িতে রাখল। বাকি ১৫২জনকে বিভিন্ন বেশ্যালয়, ড্যান্স ক্লাব, হোটেল প্রভৃতি স্থানে বিক্রি করে দিল। মূলত আবুল হোসেন ছিলেন একজন ছদ্দবেশী নারী পাচারকারী বা ওম্যান ট্রাফিকিংয়ের একজন বড় মাপের হোতা।
শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত-ভুটান ও পাকিস্তানে নারী পাচার করত। উনার কৌশলটি ছিল, উনি প্রথম দিন ফুল শয্যার রাতে মেয়েটিকে ভোগ করত। তারপর মধুচন্দ্রিমা বা হানিমুনের নামে মেয়েটি বিভিন্ন বড়বড় শহরের হোটেলে নিয়ে যেত। কিংবা কোন দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যেত। এরপর কৌশলে মেয়েটিকে তুলে দিতো নারী পাচার কারীদের হাতে- মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। লুণ্ঠিত হতো অবলা মেয়েটির ইজ্জত-সম্ভভ। তদুপরি একদা মেম্বার সাহেব ঢাকার অভিজাত এলাকালার এক হোটেলে ফুলবানু নামের এক অবলা নারীকে বিক্রি করে দিলো। আর ঐ হোটেলের খদ্দেরদের মধ্যে কেউ যেত মদ খেতে, কেউ যেত নারীদের দেহ ভোগ করতে, কেউ যেত জুয়া খেলতে। এমনি এক পরিবেশে ফুলবানুর জীবনে গোলাপ ফুটল-এক মাতাল প্রেমময় নায়কের আবেগ দ্বারা।
দ্বিতীয় পর্ব:
ফুলবানু ওরফে দৃশ্যায়িত নায়িকা মৌসুমী প্রতিদিনই খদ্দেরের আশায় রূপসজ্জায় সজ্জিত হয়ে; দু’তালার সিড়িকোঠার চৌকাটে দাঁড়িয়ে থাকতো। এটা তার ইচ্ছাগত বিষয় ছিল না, বাধ্যগত পরিস্থিতি ছিল। আবার একই রাস্তায় এক দিশেহারা টাইফের যুবক শাকিল যেত মদ্যশালার ঘরটিতে। কিন্তু শাকিলের নারী বা জুয়ার প্রতি কোন আকর্ষন ছিল না। মদই ছিল তার নেশা ও পেশা। প্রায়ই মৌসুমীর সঙ্গে শাকিলের দৃষ্টি বিনিময় হতো। এভাবে কিছুদিন যেতে যেতে ‘পড়েনা চোখের পলক’ গানের মতো- একে অপরকে ভালবেসে ফেলল। এবার মাতাল শাকিল প্রেমিক শাকিলে রূপান্তরিত হলো। মাতাল শাকিল নিঝুম রাত পর্যন্ত মদের গ্লাস নিয়ে গাইতো- ‘পৃথিবীর কাছে নেই কোন দাবি’…। যদিও মৌসুমী লজ্জা পাচ্ছিল। কিন্ত বেপরোয়া শাকিল বেশ্যালয়ের সর্দারনীকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে মৌসুমী কে নোংরা অন্ধকার গলি থেকে আলোর পথে নিয়ে এলো। অবশেষে কাজীর অফিসে দিয়ে (জায়া ও পতি) দম্পত্তিতে পরিণত হলো। তবুও ভাগ্যের লিখন, বদলায় কে! তাদের জীবনেও সুখ এলোনা।

তৃতীয় পর্ব:
‘শুধু তোমাকেই চাই’- গানটি চেতনায় লালন করে; ডাক্তারের উপদেশে শুনে শাকিল মৌসুমীর হাতধরে ল্যাব-এইড থেকে বেরিয়ে এল। দাম্পত্য জীবনের প্রথম তিন মাস পেরোতে না পেরোতেই, তারা অসুস্থ্য হয়ে পড়ল। ল্যাবরেটরীতে উভয়ই রক্ত দিয়েছে, আগামীকাল রিপোর্ট আসবে। বিধিবাম উভয়ের রক্তে ‘HIV’ ভাইরাস ধরা পড়েছে। অত: পর ওদের লাইভ হিস্টি স্টাডি করে ডা: শাবানা আজমীর এক মর্মস্পর্শী বিবরণ পেশ করেন। উনার মতে ইতি পূর্বে, মৌসুমীকে জোরপূর্বক ভাবে বিভিন্ন জনের সাথে যৌনকাজে বাধ্য করায় সে ‘HIV’ ভাইরাসে আক্রান্ত। তদুপরি বুঝা গেল, শাকিলের সাথে বিবাহের পূর্বেই সে ‘HIV’ ভাইরাস বহন করা রোগী। তবে শাকিলের আক্রান্তকাল প্রাথমিক পর্যায়ে এবং চিকিৎকরা পরামর্শ দিল শাকিল এবং মৌসুমী যদি আলাদাভাবে বসবাস করে তবে শাকিল চিকিৎসা দ্বারা বেঁচে যেতে পারে। কিন্তু শাকিলের অবুঝমন আনমনে গেয়ে উঠল ‘একদিনের ভালবাসা চিরদিন রয়….।’ শাকিল মৌসুমীকে নিয়ে একসাথে জীবন কাটাতে লাগল। কারণ একসময়ের মাতাল শাকিল তার ভালবাসার উপর ছুরি চালাতে পারলোনা। এভাবে মাস তিনেকপর অসুস্থ্য অবস্থায় থাকার পর, এক সন্ধ্যায় সমুদ্রের তীরে হাঁটতে দিয়ে উভয়ে পরপারে চলে গেল। আবেগ, ভালবাসা ও প্রেমের ইতিহাসে এই যুগল সৃষ্টি করল এক করুন ইতিহাস। তারা হয়ে গেল আমাদের কাছে স্মরনীয় ও বরণীয়।
[একটি মর্মস্পর্শী হৃদয় বিদারক প্রেমের কাহিনী]

 

শাফায়েত জামিল রাজীব
প্রধান সম্পাদক, একুশে টাইমস্

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana