শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কুলিয়ারচরের ফরিদপুরে খালটের রাস্তার দুইপাশ দখলদারদের কবলে কটিয়াদী সরকারি কলেজে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান গ্রামের বাজারে কচুর লতি বিক্রি করে ভাইরাল অধ্যাপক হোসেনপুরে ট্রাক্টর চাপায় শিশুর মৃত্যু বাবার রাজনৈতিক আদর্শে উদ্বেলিত হয়ে যুবদল থেকে সরে দাড়ালেন পুত্র শাহীন পাকুন্দিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু করিমগঞ্জে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক প্রধানমন্ত্রীই পারেন জনগণের সকল প্রত্যাশা পুরণে -কিশোরগঞ্জে চিত্র নায়ক কাঞ্চন পাকুন্দিয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু সাংবাদিক শিরিন হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ
ষষ্ঠ ধাপের ভোট কাল: ইউপি নির্বাচন শেষ করতে অনড় ইসি

ষষ্ঠ ধাপের ভোট কাল: ইউপি নির্বাচন শেষ করতে অনড় ইসি

একুশে ডেস্ক:
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তাই দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণের জ্যামিতিক ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও নিজেদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাকি তিন ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভোট শেষ করতে অনড় ইসি।
আগামীকাল সোমবার ষষ্ঠ ধাপে ২১৯ ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। এ ছাড়া সপ্তম ধাপে ৭ ফেব্রুয়ারি ১৩৮ এবং অষ্টম ধাপে ১০ ফেব্রুয়ারি ৮ ইউপিতে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ধাপে সবকটি ইউনিয়ন পরিষদেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধসহ সরকারের ১১ দফা বিধিনিষেধের মধ্যে ভোটগ্রহণ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ইসি বলছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ তেমন একটা না থাকায় নির্বাচনে কোনো অসুবিধা হবে না। তবে ইসি স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রচারণার নির্দেশ দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই বলে স্থানীয় পর্যায় থেকে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৭৪টি। সব মিলিয়ে ৮ ধাপে ৪ হাজার ১৩৮টি ইউনিয়নে ভোটের ব্যবস্থা করেছে কমিশন। এরই মধ্যে ৩ হাজার ৭৭৩টি ইউনিয়নে ভোট শেষ হয়েছে। ষষ্ঠ ধাপে কাল, সপ্তম ধাপে ৭ ফেব্রুয়ারি এবং অষ্টম ধাপে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে।
ষষ্ঠ ধাপে ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন ১ হাজার ১৫৯ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২ হাজার ৪৫৩ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৭ হাজার ৪৯৮ জন। এ ছাড়া চেয়ারম্যান পদে ১২ জনসহ তিন পদে মোট ১৪৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ছয় ধাপে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৩৬২ জন।
২০২১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে ১ এপ্রিল সব নির্বাচন স্থগিত করে দেওয়া হয়। এরপর ১০ জুন আবার ভোট স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি বেশ কিছু পৌরসভা এবং লক্ষ্মীপুর-২, ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনও পিছিয়ে ছিল করোনার জন্য।
এবার কেন ভোট চালিয়ে যেতে চাইছে নির্বাচন কমিশন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ অবস্থায় ভোট পিছিয়ে গেলে তা নতুন কমিশনকে তদারকি করতে হবে। এ কারণে বর্তমান কমিশন ভোট শেষ করতে চাইছে। গত বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদাও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইউপি ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে যেতে চান।
করোনা সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহম্মদ শহীদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, তারা নির্বাচনটা স্থগিত করতে বলেছিলেন। সেটাই সবচেয়ে ভালো হতো। যেহেতু বন্ধ করা হয়নি এখন যদি স্বাস্থ্যবিধিও না মানা হয় তাহলে ওইসব এলাকার পরিস্থিতি খুবই খারাপ হবে।
নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনগুলো একেবারে প্রান্তিক পর্যায় বা একেবারে গ্রাম এলাকায় হচ্ছে। এসব গ্রামে নির্বাচন ঘিরে তেমন জনসভাও হয় না, জনসমাগমও হয় না। প্রার্থীরা নিজেরা কয়েকজন মিলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালান। তারপরও যাতে সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকার যে ১১ দফা বিধিনিষেধ দিয়েছে তাতে প্রকাশ্যে কোনো সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও সর্বোচ্চ ১০০ জনের বেশি উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ইউপি নির্বাচনে শত শত কর্মী-সমর্থক নিয়ে প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন, সভা-সমাবেশ করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরে একজন প্রার্থী দাঁড়ালে সেখানে শত লোক ভিড় করে। গ্রামে সে রকম নয়। আমরা সরকারের যে নির্দেশনা আছে সেটা মেনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই নির্বাচনের আয়োজন করেছি। তিনি বলেন, এ নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় তাহলে জট তৈরি হবে। নতুন কমিশন আসার পর নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সময় লাগবে। এর আগেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল। তখনও ভোটকেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা ও মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ছিল। এবারও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না তা মনিটরিং করার দায়িত্বে প্রশাসন আছে তারা দেখবে।
তিনি বলেন, এ করোনার মধ্যেও ভারতে পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে। প্রাদেশিক নির্বাচনের তফসিল দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, নির্বাচন কমিশন একটা গাইডলাইন তৈরি করেছে। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী মাস্ক পরে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে। সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে ও ভেতরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকবে। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই এগুলো দেখবেন। আলাদা কোনো টিম থাকবে না বা কোনো মেডিকেল টিমও থাকবে না।
তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। যেসব এলাকায় নির্বাচন হচ্ছে তার কোনো জায়গায় যদি করোনার হটস্পট হয় তাহলে তারা আমাদের জানাবে। তখন আমরা ব্যবস্থা নেব।
মনিটরিং সেল গঠন : ষষ্ঠ ধাপে ২১৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় ও মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ সেল গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত আদেশটি জারি করেছে কমিশন। ইসি কর্মকর্তারা জানান, মনিটরিং সেলের প্রধান করা হয়েছে আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদেরকে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা, পুলিশের এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা, বিজিবি ও র‌্যাবের অতিরিক্ত পরিচালক, মেজর, আনসার ও ভিডিপির মেজর অথবা উপপরিচালক কর্মকর্তা এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অথবা সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা মনিটরিং সেলের কমিটিতে থাকবেন।
ইসির আদেশে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মনিটরিং সেলের কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে পরিচালিত হবে। মনিটরিং সেল যেন কার্যকর হয় এবং কমিশনকে যেন সময়ে সময়ে পরিস্থিতি অবহিত করা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্বাচনি সংঘর্ষে একজন নিহত : জামালপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ভোলা শেখ (৫৮) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চর নলসন্ধ্যা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ভোলা শেখ সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার নিশ্চিতপুর ইউনিয়নের কাজল গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। ইউপি সদস্য প্রার্থী নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী সুজাত আলীর লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ভোলা শেখ নিহত হন।
নিহতের স্ত্রী লাইলি বেগম জানান, সকালে তার স্বামী নুরুল ইসলামের সমর্থকদের সঙ্গে ভোট চাইতে বের হন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তার স্বামীকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
পাকুন্দিয়ায় সংঘর্ষে আহত ২০ : পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, শনিবার সকাল থেকে মগ ভোট অনুষ্ঠিত হয় নয়টি ইউনিয়নের সবকটি কেন্দ্রে। বেলা ৩টার দিকে ভোটকেন্দ্রের সামনে পোস্টার লাগানো এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের অস্থায়ী অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে বুরুদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana