মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৯:০০ অপরাহ্ন

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের টাকার পাই পাই হিসাব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের টাকার পাই পাই হিসাব দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

একুশে ডেস্ক:
বাংলাদেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে বিএনপি জামায়াত কোটি কোটি ডলার খরচ করে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, লবিস্ট নিয়োগের টাকার পাই পাই হিসাব তাদেরকে দিতে হবে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বাঁচাতে এবং নির্বাচন বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে লবিস্ট নিয়োগ করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সংসদের ১৬তম অধিবেশনের সমাপণী ভাষনে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। সরকার দেশের ভাবমুর্তি রক্ষায় পিআর ফার্ম নিয়োগ করেছিল বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিথ্যা অপবাদ আর অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা লবিষ্ট নিয়োগ করেছে। বিদেশি ফার্মকে এই কোটি কোটি ডলার তারা পেমেন্ট করলো- এই অর্থ কিভাবে বিদেশে গেল? এটা কোথা থেকে এলো তার জবাব তাদের দিতে হবে। এর ব্যাখ্যা তাদের দিতে হবে।
লবিষ্ট ফার্ম নিয়োগ এবং এর পেছনে ব্যয় সংক্রান্ত বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন। এই যে তার তালিকা। এটা আমি বক্তৃতার অংশ হিসেবে নিবো। কত লাখ ডলার বিএনপি খরচ করেছে। আমার প্রশ্ন। এই অর্থ কোথা থেকে তারা পেল? এটা তো বৈদেশিক মুদ্রা। বিএনপি এই বৈদেশিক মুদ্রা কোথা থেকে পেয়েছে। কিভাবে খরচ করেছে। বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে বাধা দেয়ার জন্য। তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে কোন ভালো কাজের জন্য নয়।
সরকারের লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ নিয়ে তিনি বলেন, হ্যাঁ সব সময় পিআর ফার্ম নেওয়া হয়। যাতে বিনিয়োগ বাড়ে। উৎপাদন বাড়ে। আমরা যেন বেশি রফতানি করতে পারি। দেশের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য করা হয়। কিন্তু বিএনপির কাজটি কী ছিলো?
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের র‌্যাবের কিছু অফিসারের বিরুদ্ধে আমেরিকা স্যাঙ্কশন দিয়েছে। যদি বলি কাদের ওপর? এখন আমাদের বর্তমান আইজিপি, তখন র‌্যাবের ডিজি ছিলেন। হোলি আর্টিজানে যখন সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে। মানুষ হত্যা করে। নৃশংস দৃশ্য! তারা কেবল হত্যাই করেনি, ছুরি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে মানুষ মেরেছে। হত্যার পরে বাবুর্চিকে জিম্মি করে বড় বড় চিংড়ি মাছ থেকে শুরু করে সব রান্ন করে খেয়েছে। কী করম বিকৃতমনা ছিলো তারা। পুলিশের দুইজন অফিসার সেখানে ছুটে গেলে তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। এরপর আমরা পদক্ষেপ নেই। সেই সময় আমেরিকার যিনি রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি টুইট করেছিলেন- হলি আর্টিজেনের সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশ একা সমাধান করতে পারবে না। রোযার দিন ছিলো। সারারাত আমরা কাজ করেছি। সেহেরির সময় পর্যন্ত আমি বৈঠক করি। সবাইকে নিয়ে মিটিং করি। কী করা হবে। কীভাবে অপারেশন চালানো হবে। তার পূর্ণ পরিকল্পনা করেছি। পরের দিন সকাল নয়টার মধ্যে জিম্মিদের উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সফলতার সাথে তাদের আক্রমণ মোকাবিলা করি। এরপরপরই আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর টুইটটি সরিয়ে ফেলেন। এবং সেই সাথে বাংলাদেশে আর সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারেনি। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমন করেছি। যেটা বিএনপির সৃষ্টি। প্রশ্ন হচ্ছে- যাদেরকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) স্যাঙ্কশন দিলো তাদের অধিকাংশ এই সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রেখেছিল। তাহলে এরা কেন আমেরিকার কাছে এত খারাপ হলো? সব থেকে ভালো ভালো অফিসার যারা। ওই অপারেশনে যারা ছিলো এবং সেই। আমার মনে হয় যারা সন্ত্রাস দমনে সফল, যারা দেশটা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। যারা সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সুসংহত করেছে তাদেরও ওপরেই যেন আমেরিকার রাগ।  আমি আমেরিকাকে দোষ দেই না। ঘরের ইদুর বাধ কাটলে কাকে দোষ দেবো?
অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের তখনকার সংসদ সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করেছিল। সেই হত্যার সাথেও বিএনপি জড়িত সেটাও বেরিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এর বিচারের কাজটি বার বার বাধা দিচ্ছে তার পরিবার থেকে। যখনই বিচারের কাজটি শুরু হয় ওমনি তার পরিবার একটা বাধা দিয়ে রাখে। কেন ঠিক জানি না।
দেশটাকে পিছিয়ে যেতে দেবো না মন্তব্য করে তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা রিফিউজি হিসেবে ৬ বছর বাস করেছি দুই বোন। নাম পরিচয়টাও ব্যবহার করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিলো- সুযোগ পেলে দেশকে গড়ে তুলব। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে দেশে ফিরি। অনেক বাধাবিপত্তি, অনেক অপপ্রচার শুনতে হয়েছে। লক্ষ্য স্থির করে চলেছি বলে লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, করোনায় আমেরিকার আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে চলে গেছে। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ দরিদ্রসীমার নিচে যাইনি। বরং  দারিদ্র বিমোচনে বিএনপির আমলের ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বিশ্বাস করি আরো আমরা কমাতে পারবো। যদিও দরিদ্র আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত অর্থনীতির মধ্যেও আমরা বিনা পয়সায় করোনার পরীক্ষা করাচ্ছি। প্রায় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা লাগে এক একটি করোনার পরীক্ষার জন্য। পাশাপাশি বিনা পয়সায় আমরা টিকাও দিচ্ছি। দেশবাসীকে আহ্বান জানানো যারা ভ্যাকসিন নেননি। ভ্যাকসিন নেবেন কোন অসুবিধা হবে না। আমরা ভ্যাকসিনের জন্য আলাদা বাজেট য়েছি। ভ্যাকসিনের অভাব হবে না। যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তারা নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে মারা যাচ্ছে না বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
তিনি বলেন, সবাই টিকা নেবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন। যাতে অমিক্রন থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana