বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

ইউপি নির্বাচন: আওয়ামীলীগ বনাম আওয়ামীলীগ

ইউপি নির্বাচন: আওয়ামীলীগ বনাম আওয়ামীলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, শহিদুল ইসলাম:

টানা তেরবছর ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামীলীগ দলীয়মন্ত্রী, এমপিদের ভেতর একনায়কতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটেছে। তার সবচেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরণ: এবারের ইউপি নির্বাচন। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি বিষয়ে সারা দেশে দৃশ্যমান হয়েছে যে, আওয়ামীলীগের মুখোমুখি আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীকে না মেনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি এবং তাদের মধ্যে হিংসা, হানাহানি, রক্তারক্তি ছিল ব্যাপক। জেলা নেতাদের পাঠানো তালিকা থেকে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে- কোথাও এমপিদের প্রার্থীরা মনোনয়ন পেয়েছে। এমপি তাঁর প্রার্থীদের বিজয়ী করার চেষ্টা করেছেন। আর যেখানে এমপির প্রার্থীরা মনোনয়ন পাননি সেখানে এমপিরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। কোথাও জিতেছেন, কোথাও বা হেরেছেন। যখন নৌকা প্রতীক নিয়ে হেরেছে তখন গনমাধ্যমে এসেছে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা পরাজিত। অনেক হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী-এমপির এলাকা ব্যাপক পরাজয় ঘটেছে। এটা দলের জন্য লজ্জাজনক। সারা দেশ জুড়ে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে জঘন্য মনোনয়ন বাণিজ্যের। একেক ইউনিয়নে তারা যে তিনজন করে নাম পাঠিয়েছেন সেখানে ক্রমানুসারে একেকজনকে একেক অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে। সবার আগে যার নাম তাকে সর্বোচ্চ এবং পরের দুজনকে কম করে টাকা দিতে হয়েছে। যে কর্মী দলের জন্য রক্ত দেন, বিরোধী দলে থাকলে নির্যাতন ভোগ করেন, যে কর্মী বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে ভালোবাসে, সকাল-রাত দল করে বেড়ান তার কাছ থেকে জেলা নেতাদের মনোনয়ন বাণিজ্য কী কুৎসিত ও কদর্য। আওয়ামী লীগের মতো একটি বহুমুখী আদর্শিক ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল যার বিকাশ একবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আরেক দফা তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঘটেছে। যদিও আজ গণতন্ত্র আর নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে কিন্তু মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব ক্যারিশমা ও দুরদর্শিতায় ’৭১ ও ’৭৫ সালের ঘাতকদের বিচার হয়েছে। একুশের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলারও বিচার হয়েছে। আর দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাসড়কেই উঠেনি, বিশ^কে চকমে দিয়েছেন শেখ হাসিনা তাঁর অর্থনৈতিক রোলমডেলে। দেশজুড়ে পদ্মা সেতুই নয়, একের পর এক মেঘা প্রকল্প শেষ হচ্ছে। অবকাঠামোর উন্নয়নসহ ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এমন উন্নয়ন আর শেখ হাসিনার ক্যারিশমায় বিরোধী দলের যেখানে সহিংস আন্দোলন হরতাল, অবরোধ নেই সেখানে আওয়ামীলীগের ইউপি নির্বাচনে এমন ভরাডুবি যে অনেক ইউনিয়নে প্রার্থী জামানতই হারিয়েছেন। দু’একটিতে অর্ধশত ভোটও পাননি। এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতি কেন হলো? নেতা-কর্মীরা টানা ১৩ বছর দল ক্ষমতায় থাকায় এক ধরনের উগ্র অহংকার নিয়ে হাঁটছেন। রাজনৈতিকে বাণিজ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। জেলা নেতারা মনোনয়ন বাণিজ্য করতে গিয়ে একদিকে যোগ্য প্রার্থীদের নাম দেননি, অন্যদিকে তাঁরা সংগঠনকে শক্তিশালী করা দূরে থাক, অতিশয় দুর্বল ও অগোছালো করেছেন। কর্মী নেই এখন তৃণমূলজুড়ে কেবল নেতা। আর নেতারা গণবিছিন্ন। এটা যেন সরকারি দলের জন্য সাপে বর না হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana