মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

মমতা-মায়াবতীর খেলা

মমতা-মায়াবতীর খেলা

ভারতীয় রাজনীতিতে মায়া-মমতা নিয়ে চিন্তা বহুকালের। মায়া-মমতার একজন উত্তর প্রদেশের দলিত নেত্রী সুশ্রী মায়াবতী এবং অন্যজন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুইজনই ‘অবিবাহিত,। দুই নারীকেই নাকি বিশ্বাস করা মহাপাপ! এমনটাই মনে করেন অনেকে। এঁরা যে জোটে থাকেন, তাঁর বিপরীত জোটেরই নাকি লাভ হয়। জোটবদলেও নিদ্ধহস্ত দুই নারী। উচ্চামাত্রায় আকাঙ্খায় ভরপুর মায়া-মমতার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক অনেকটা ‘এই আছে, এই নেই!’
মায়াবতীর রাজনীতিতে এখন ভাটা চলছে। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক ‘ভাইপো’, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ সাদরের হাত ধরেও কোন সুবিধা করতে পারেননি ‘বুয়া’ (পিসি) মায়াবতী। তাই এবার, একলা চলোরে! অন্যদিকে মমতা আপন ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের উপ-প্রধান করে দিয়ে ‘পিসি’ মমতার সাফল্য এখন মধ্য গগনে। মায়াবতীর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে নেই। তবে তাঁর ভাইপো থেকে শুরু করে দলীয় সহকর্মীরা অনেকেই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত। জেলও খাটতে হয়েছে মমতার নেতা-মন্ত্রীদের। তাঁদের বাঁচাতেই নাকি বিজেপিকে খুশি করার গোপন কৌশল নিয়েছেন মমতা।

পশিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বাম বা কংগ্রেস ন্যূনতম শক্তি জাহির করতে ব্যর্থ। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মমতাকেই ভরসা করতে বাধ্য। রাজ্যে ৩৫ শতাংশের কাছাকাছি মুসলিম ভোট মমতার বাড়তি শক্তি। ভারতের বাস্তব পরিস্থিতিই বলছে, বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে কংগ্রেসই হবে বড় শরিক। আট রাজ্যে কংগ্রেস শাসক দল বা জোটের শরিক। বাকিরা আঞ্চলিক দল হিসেবে নিজেদের রাজ্যেই সীমাবদ্ধ। উল্টো ছবিও আছে। বহু রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতার থেকে অনেক দূরে, আঞ্চলিক দলই ভরসা। তাই কংগ্রেসের নেতৃত্বে জোটই বিজেপিকে হারানের একমাত্র পথ। আর এই পথের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মমতা-মায়াবতীর রাজনীতির খেলা।

 

শাফায়েত জামিল রাজীব
প্রধান সম্পাদক
একুশে টাইমস্ বিডিডটকম

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana