বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে যাচ্ছে দেশ

ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে যাচ্ছে দেশ

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ এখন ইলেকট্রিক মোটরযানের পথের দিকে যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। খসড়া নীতিমালার ওপর মতামত চেয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, সার্বিকভাবে ইলেকট্রিক মোটরযান পরিবেশবান্ধব। এ ছাড়া এসব মোটরযানে সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার প্রয়োজন হয় না। ফলে কোনো ধরনের কার্বন ডাই-অক্সাইড বা দহনজনিত অন্য কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস নিঃসরণ হয় না।
অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সরকার ইতোমধ্যে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা তৈরি করেছে। এই নীতিমালায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদিত মোটরযানের একটা বিরাট অংশ জ্বালানি সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক মোটরযানে রূপান্তরের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
কী আছে ইলেকট্রিক মোটরযানের নীতিমালায়? এই প্রশ্নের উত্তরে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ইলেকট্রিক মোটরযান হচ্ছে এমন একটি পরিবহন যা বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে চালিত। যার চালিকাশক্তি সেই মোটরযানে সংযুক্ত রিচার্জেবল ব্যাটারির সাহায্যে সরবরাহ করা হয়। তবে তা কিন্তু ব্যাটারিচালিত বাইসাইকেল কিংবা রিকশা নয়।
নীতিমালা তৈরি করার উদ্দেশ্যে সম্পর্কে তিনি আরও জানান, ইলেকট্রিক মোটরযানকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চলাচলের অনুমাদন দেওয়া। এর পাশাপাশি মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি, ফি ও ইকোনমি লাইফ নির্ধারণ করা হবে। ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক মোটরযান শনাক্তের জন্য নির্ধারিত চেসিস নম্বর থাকতে হবে। আর ইলেকট্রনিক ব্যাটারি এমন এক স্থানে স্থাপন করতে হবে যেন যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। গতির ক্ষেত্রেও ইলেকট্রিক মোটরযানের সক্ষমতা থাকতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের আগে প্রস্তুতকারক কিংবা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিআরটিএর কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। ইকোনমিক লাইফের বিষয়ে খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, মোটরসাইকেল ১২, থ্রি হুইলার ১০, হালকা মোটরযান ২০, মধ্যম মোটরযান ২০ ও ভারী মোটরযান ২০ বছর হবে। ইকোনমিক লাইফ শেষ হলে মোটরযান আর রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না। যাত্রী পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কিলোমিটার অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
ইলেকট্রিক মোটরযানের চার্জিং চাহিদার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ চার্জিং স্টেশন স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইচ্ছা করলে কেউ কেউ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বা সোলার প্যানেল ব্যবহার করে চার্জ দিতে পারবেন। ব্যাটারি ব্যবহার করলে তা হতে হবে উচ্চতর দক্ষতা সম্পন্ন ও পরিবেশবান্ধব। ইলেকট্রিক মোটরযান আমদানির ক্ষেত্রে তা হতে হবে নতুন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana