শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

মূলধন ঘাটতিতে দেশের ১১ ব্যাংক

মূলধন ঘাটতিতে দেশের ১১ ব্যাংক

ঋণখেলাপি না হওয়ার জন্য এতসব সুবিধা দিলেও তা গ্রহণ করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়নি। এতসব ছা‌ড়ের পরও ঠেকানো যাচ্ছে না ঋণখেলাপির হার। ফলে মন্দ ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে গিয়ে বড় আকারে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি ১১টি ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের সে‌প্টেম্বর শে‌ষে যে ১১টি ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ৫টি, বিশেষায়িত খাতের দুটি ও বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংক রয়েছে।
মূলধন সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও এবি ব্যাংক। এ ছাড়াও রয়েছে বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।
এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। তিন মাস আগে এসব ব্যাংকে ঘাট‌তি ছিল ২৫ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাহকের আমানতের অর্থ থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদান করে। সেই ঋণ খারাপ হয়ে পড়লে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়। আবার খারাপ ঋণের ওপর অতিরিক্ত মূলধন রাখার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। কাক্সিক্ষত মুনাফা করতে না পারা ও লাগামহীন খেলাপি ঋণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণ করতে পারছে না। ফলে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই এবং এটা নিয়ে তারা উদ্বিগ্নও নয়। ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এক হয়ে গেছে, তারা খেলাপিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ ছাড়া শীর্ষ ঋণখেলাপিরা সবাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। এ ছাড়া সরকারের তেমন সদিচ্ছারও দেখা নেই। যার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana