সোমবার, ১৫ Jul ২০২৪, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

ঈদ সংখ্যা

(১) প্রবন্ধ: এক প্রিয়দর্শিনী আজ দিশেহারা

১ম পর্ব: প্রিয়দর্শিনীর গুনগত পরিচয়।
উনি একজন সামাজিক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব, সুরেলা উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পী, বাস্তবধর্মী কথাসাহিত্যিক, রূপচর্চায় তাঁর অনবদ্য হাত, কফির আড্ডায় যিনি ঝড় তুলেন- সেই প্রিয়দর্শিনী হলেন- মিস `M’

২য় পর্ব: প্রিয়দর্শিনী নাম করতে চায়।
প্রিয়দর্শিনীর পুরো নাম মিসেস A.N.M তবে তথাকথিত এলিট সোসাইটিতে উনি মিস M নামে পরিচিতিতে ভালবাসেন। কদাচিৎ মদের বারে ড্যান্স করতেও উনার কোন লজ্জা শরমের বালাই নেই। ইদানিংকালে ভদ্র মহোদয়ার ইচ্ছা জেগেছে- সমাজে উচ্চ তলার ধনবান মানুষের সাথে একটি হটলাইন সৃষ্টি করার। তার কাঙ্কিত অনুভূতি তাকে তাড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে- ঐ ক্ষমতাবান ও ধনবান ব্যক্তিবর্গের সাথে লংড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছা। কিংবা সমুদ্র সৈকতে হাত ধরে বেড়ানো। কিন্তু উনি ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন কিভাবে সেই পথে হাটবেন। মহোদয়ার টাকা আছে, রূপ আছে কিন্তু উপর তলায় উঠার সিঁড়িটা জানা নেই। নিঝুম রাতে অনিদ্রায় ও দুশ্চিন্তায় চিন্তাগ্রস্থ হয়ে, উনি একটি সিঁড়ি বের করলেন। এবার ঐ পথেই হাঁটবেন।

৩য় পর্ব: প্রিয় দর্শিনীর গোপন অভিসার।
এবার চিত্রনাট্য বাস্তবে রূপ দিতে-অভিষেক ঘটল গোপন অভিসারের। দৃশ্যপটে আবির্ভাব হলো এক যুবকের। প্রিদর্শিনীর মতো সেই যুবকও একই পথে হাটতে চায়। ভিষণ উদ্যোগে খুজছে কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছার সিঁড়ি। যদিও সেও না-কি বিবাহিতা। যদিও কখনও প্রিয়দর্শিনীর সাথে ঐ যুবকের মানসিক মিলন ঘটে, তবে সেটা হবে-পরকীয়া প্রেম- প্রেমের সংজ্ঞা তা-ই বলে।

৪র্থ পর্ব: প্রিয়দর্শিনীর কি দশা!
বাঙলা ব্যাকারণের ভাষায় যা-কে দেখলেই ভাললাগে ও ভালবাসতে ইচ্ছে করে-তাকেই প্রিয়দর্শিনী বলে ডাকা হয়। আর অপেক্ষামান যুবক এমন একজন প্রিয় দর্শিনীর খোঁজেই ছিলেন।
একদা বৈশাখী ঝড়ের রাতে, প্রিয়দর্শিনীর ইংরেজী ‘মুভি’ দেখার সাধ জাগল। গলায় কিছুটা হুইস্কি, বিয়ার ঢেলে প্রিয়দর্শিনী চট্টগ্রামের ‘আলমাস’ সিনেমা হলের দিকে গাড়ী ছুটালো। আর স্টিয়ারিংএ হাতে রেখে- অবচেতন মনে, স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভীষন দ্রুত গতিতে গাড়ীটি এগোতে লাগল। কেবিনে বসে সিনেমা দেখতে লাগল। হাটাৎ প্রিয়দর্শিনীর ইচ্ছে হলো, ধুমপানের। যদিও দামী ব্রান্ডের মেলবোর সিগারেটের প্যাকেট পার্সে ছিল। কিন্তু লাইটার ছিল না। তখন পাশে বসা যুবকের কাছে লাইটার চাইলেন। কথিত যুবক লাইটারটি জ¦ালিয়ে দিলেন। তথাপি প্রিয়দর্শিনী একটি স্বস্তির নি:শ্বাস নিলেন।

৫ম পর্ব: ঝড়ের রাত্রিতেঝড় তুলেছিল

তথাকথিত ও আকাঙ্খিত যুবকেরও শীতকালের ঝড়-বৃষ্টিটা একদম ভাল লাগছিল না। তাই সেও গেল আলমাস সিনেমা হলে ইংরেজী মুভি উপভোগ করতে। তথাপি প্রচন্ড শীত ও বৃষ্টিতে, শরীরটাকে গরম রাখার জন্য রাশিয়ান কোটের বাম পকেটে একটা ভদকার বোতল নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবারতো ট্রাজেডি মোড় নিল অন্য দিকে। স্বল্প ক্ষণের পরিচয়ে যুবকের মনে সারা দিল- ‘চোখ যে বলে মনের কথা’ গানটি। অত:পর লাইটারের মতো ভদকার বোতলের চিপিটা খুলেই মিস M এর দিকে এগিয়ে গেল। অত:পর উভই তৃপ্তি মতো ভদকা পান করলো। পরে খুশ মেজাজে হাসা-হাসি ও ফিস ফিস করতে লাগল। এটা যেন- শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’র কথা মনে করিয়ে দিল। তবে ভদকার নেশায় টাল-মাতাল হয়ে মিস M শরম-লজ্জা হারিয়ে- চার দেয়ালের অন্ধকারের মধ্যে স্বল্প পরিচিত যুবকটিকে জড়িয়ে ধরল। আর অনবরত লিপকিস করতে লাগল। আকাঙ্খিত যুবকতো- সারা দিবেই। অবস্থার দৃষ্টে, ব্যাপারটা এমন ধারালো যে- সেই ঝড়ের রাত্রিতে- মিস M চুম্বনের ঝড় তুলেছিল।

৬ষ্ঠ পর্বপ্রিয়দর্শিনীরলজিং জামাই

তথাপি পরবর্তী ঘটনাগুলো আরো আবেগিয় ও আরোও অনুভূতি সম্পন্ন ফ্যাক্ট।

যেহেতু প্রিয়দর্শিনীর জামাই অন্য জেলায় চাকুরী করে আর সন্তান গ্রীষ্মের ছুটিতে মামার বাড়িতে বেড়াতে গেছে। তাই কাঙ্খিত যুবককে প্রিয়দর্শিনী নিজের আলিশান বাসায় নিয়ে গেলেন এবং “লজিং জামাই” হিসাবে আদর-যত্ন করতে লাগলেন।

(২)প্রবন্ধ: মেঘলা আকাশ

প্রথম পর্ব:
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁয়ের এক ইউপি মেম্বার জিন্নাটুপি আর গালে কয়েকটি ছাগলদাড়ি নিয়ে ইসলামের ফতুয়াকে বিকৃত করে- অদ্যাবধি পর্যন্ত ৪৪ টি বিয়ে করে ফেললো। মেম্বার আবুল হোসেন সাহেব ৫৮ বছর বয়সেও ভীষন রমনীমোহন। আর উনার উর্দু, ফার্সি আর সংস্কৃত ভাষার উপর বিভিন্ন শ্লোক, খনারবচন আর উনার প্রতিপত্তিকে ব্যবহার করে- প্রথমে কাবু করত অভিভাবক বৃন্দকে। তারপর অঁজপাড়া গাঁয়ের মালেকা-ছালেকাদেরকে উনার জালে ফাঁসাত। এভাবে ক্রমান্বয়ে মেম্বার আবুল হোসেন ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক দর্জাল ৪ স্ত্রীকে বাড়িতে রাখল। বাকি ৪০জনকে বিভিন্ন বেশ্যালয়, ড্যান্স ক্লাব, হোটেল প্রভৃতি স্থানে বিক্রি করে দিল। মূলত আবুল হোসেন ছিলেন একজন ছদ্দবেশী নারী পাচারকারী বা ওম্যান ট্রাফিকিংয়ের একজন বড় মাপের হোতা।
শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত-ভুটান ও পাকিস্তানে নারী পাচার করত। উনার কৌশলটি ছিল, উনি প্রথম দিন ফুল শয্যার রাতে মেয়েটিকে ভোগ করত। তারপর মধুচন্দ্রিমা বা হানিমুনের নামে মেয়েটি বিভিন্ন বড়বড় শহরের হোটেলে নিয়ে যেত। কিংবা কোন দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যেত। এরপর কৌশলে মেয়েটিকে তুলে দিতো নারী পাচার কারীদের হাতে- মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। লুণ্ঠিত হতো অবলা মেয়েটির ইজ্জত-সম্ভভ। তদুপরি একদা মেম্বার সাহেব ঢাকার অভিজাত এলাকালার এক হোটেলে ফুলবানু নামের এক অবলা নারীকে বিক্রি করে দিলো। আর ঐ হোটেলের খদ্দেরদের মধ্যে কেউ যেত মদ খেতে, কেউ যেত নারীদের দেহ ভোগ করতে, কেউ যেত জুয়া খেলতে। এমনি এক পরিবেশে ফুলবানুর জীবনে গোলাপ ফুটল-এক মাতাল প্রেমময় নায়কের আবেগ দ্বারা।
ফুলবানু ওরফে দৃশ্যায়িত নায়িকা মৌসুমী প্রতিদিনই খদ্দেরের আশায় রূপসজ্জায় সজ্জিত হয়ে; দু’তালার সিড়িকোঠার চৌকাটে দাঁড়িয়ে থাকতো। এটা তার ইচ্ছাগত বিষয় ছিল না, বাধ্যগত পরিস্থিতি ছিল। আবার একই রাস্তায় এক দিশেহারা টাইফের যুবক শাকিল যেত মদ্যশালার ঘরটিতে। কিন্তু শাকিলের নারী বা জুয়ার প্রতি কোন আকর্ষন ছিল না। মদই ছিল তার নেশা ও পেশা। প্রায়ই মৌসুমীর সঙ্গে শাকিলের দৃষ্টি বিনিময় হতো। এভাবে কিছুদিন যেতে যেতে ‘পড়েনা চোখের পলক’ গানের মতো- একে অপরকে ভালবেসে ফেলল। এবার মাতাল শাকিল প্রেমিক শাকিলে রূপান্তরিত হলো। মাতাল শাকিল নিঝুম রাত পর্যন্ত মদের গ্লাস নিয়ে গাইতো- ‘পৃথিবীর কাছে নেই কোন দাবি।

শেষ পর্ব:
বেপরোয়া শাকিল বেশ্যালয়ের সর্দারনীকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে মৌসুমী কে নোংরা অন্ধকার গলি থেকে আলোর পথে নিয়ে এলো। অবশেষে কাজীর অফিসে দিয়ে (জায়া ও পতি) দম্পত্তিতে পরিণত হলো। তবুও ভাগ্যের লিখন, বদলায় কে! তাদের জীবনেও সুখ এলোনা। ‘শুধু তোমাকেই চাই’- গানটি চেতনায় লালন করে; ডাক্তারের উপদেশে শুনে শাকিল মৌসুমীর হাতধরে ল্যাব-এইড থেকে বেরিয়ে এল। দাম্পত্য জীবনের প্রথম তিন মাস পেরোতে না পেরোতেই, তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। ল্যাবরেটরীতে উভয়ই রক্ত দিয়েছে, আগামীকাল রিপোর্ট আসবে। বিধিবাম উভয়ের রক্তে ‘HIV’ ভাইরাস ধরা পড়েছে। অত: পর ওদের লাইভ হিস্টি স্টাডি করে ডা: শাবানা আজমীর এক মর্মস্পর্শী বিবরণ পেশ করেন। উনার মতে ইতি পূর্বে, মৌসুমীকে জোরপূর্বক ভাবে বিভিন্ন জনের সাথে যৌনকাজে বাধ্য করায় সে ‘HIV’ ভাইরাসে আক্রান্ত। তদুপরি বুঝা গেল, শাকিলের সাথে বিবাহের পূর্বেই সে ‘HIV’ ভাইরাস বহন করা রোগী। তবে শাকিলের আক্রান্তকাল প্রাথমিক পর্যায়ে এবং চিকিৎকরা পরামর্শ দিল শাকিল এবং মৌসুমী যদি আলাদাভাবে বসবাস করে তবে শাকিল চিকিৎসা দ্বারা বেঁচে যেতে পারে। কিন্তু শাকিলের অবুঝমন আনমনে গেয়ে উঠল ‘একদিনের ভালবাসা চিরদিন রয়ৃ.।’ শাকিল মৌসুমীকে নিয়ে একসাথে জীবন কাটাতে লাগল। কারণ একসময়ের মাতাল শাকিল তার ভালবাসার উপর ছুরি চালাতে পারলোনা। এভাবে মাস তিনেকপর অসুস্থ্য অবস্থায় থাকার পর, এক সন্ধ্যায় সমুদ্রের তীরে হাঁটতে দিয়ে উভয়ে পরপারে চলে গেল। আবেগ, ভালবাসা ও প্রেমের ইতিহাসে এই যুগল সৃষ্টি করল এক করুন ইতিহাস। তারা হয়ে গেল আমাদের কাছে স্মরনীয় ও বরণীয়।

(৩) প্রবন্ধ: থার্টি ফাস্ট নাইটের কথোপকথন

সরকারী গুরুদয়াল কলেজে ছাত্র বাংলা সাহিত্যে পড়ুয়া প্রেম কুমার থার্টি ফাস্ট নাইটকে সেলিব্রেশন করতে গিয়ে মাঝ রাত অবধি শহীদ মিনারের বেদিতে আড্ডা দিয়েছে। অত:পর কাব্যিক প্রেম কুমার নিঝুম রাত্রে হেঁটে-হেঁটে গন্তব্যস্থল বত্রিশের দিকে রওয়ানা দিল। কিন্তু প্রেম কুমার উচ্চ বালিকা স্কুলের সামনে পৌঁছতেই হটাৎ আঁতকে উঠল। কোথা থেকে যেন করুণ স্বরের কথোপকথন শোনা যাচ্ছে। তারপর সে উপর দিকে চেয়ে স্কুল গেটের বড় গাছটির দিকে তাকাল। গাছের মগডালে প্রেমিক ব্যাঙ এবং তার স্ত্রী ব্যাঙামীর কথাগুলো শুনতে পেলো।
ব্যাঙ তার স্ত্রীকে বললো- হাই ডার্লিং, তোমাকে আজকের এই আনন্দঘন দিনে এমন কুৎসিত দেখাচ্ছে কেন ? তোমার চেহারায় এটা কিসের ছাঁপ ? তখন প্রেমিকা ব্যাঙামী কাঁদতে কাঁদতে বললো, প্রিয়তমা আমার কোন দোষ নেই। ঐ যে বিউটি পার্লারটি দেখতে পাচ্ছ না! ওরা নকল প্রসাধনী ব্যবহার করে আজকের এই মধুময় রাত্রে আমাকে ভূত বানিয়ে দিল। তখন প্রেমিক ব্যাঙটি আবেগময় কণ্ঠে বলে উঠল- আমি এই অবিচারের শেষ চাই।

 

 

 

সম্পাদনায়:

শাফায়েত জামিল রাজীব

সম্পাদক, একুশে টাইমস্

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana