সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
জাকির হোসেন, কিশোরগঞ্জ:
ব্রহ্মপুত্র নদ প্রবাহের সময় হোসেনপুর, পাকুন্দিয়ার মধ্য দিয়ে এসে পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে আরেকটি নদীর সৃষ্টি হয়। এটিই নরসুন্দা। কেন এই নদের নাম নরসুন্দা: কিভাবে হলো এই নাম, প্রাচীন শ্রুতি অনুযায়ী, সুন্দা নামে একজন দাসী সেবার জন্য নিয়োজিত ছিলেন একজন কুলীন ব্রাহ্মণের। সেই ব্রাহ্মণ ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়েছলেন পুণ্য স্নান করতে, হাতে ছিলো পদ্ম, দেবতার জন্য। সেই ব্রাহ্মণ যখন পদ্ম সমর্পণ করছিলেন, তখন তা ব্রহ্মপুত্র গ্রহণ না করে তার সেবায় নিয়োজিত দাসীর পায়ে সমর্পণ করেন।
এই দৃশ্য দেখে সেই ব্রাহ্মণ বুঝতে পারলেন এই দাসী সাধারণ কেউ নয়, তখনই সে নিজের ভুল বুঝতে পেরে দাসীর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইবার জন্য এগিয়ে গেলেন, আর দাসী ভাবছিলেন, মনিব কেন আমার কাছে ক্ষমা চাইবেন, তাই তিনি সরে যাচ্ছিলেন। এভাবে সেই সুন্দা দাসীর পেছন পেছন নর ছুটে যাচ্ছিলেন, আর তাদের পেছনে সৃষ্ট জলের প্রবাহ কে নরসুন্দা বলা হয়।
পৃথিবীর প্রায় সব নদী বা স্থানের নামের পেছনেই এমন নানা লোক কাহিনি জড়িয়ে আছে। যার ঐতিহাসিক ভিত্তি খুঁজে ফেরাটা নিতান্তই সময়ের অপচয়।
নরসুন্দার বর্তমান অবস্থা:
কিশোরগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থলের গৌরাঙ্গ বাজার ব্রিজে দাঁড়িয়ে যে কারোর-ই মনে হতে পারে এখানে একটা নদী ছিল, এখন নেই, পড়ে আছে নদীর কঙ্কাল’। সামনাসামনি দাঁড়িয়ে দেখলে, কিশোরগঞ্জ শহরের মাঝ বরাবর প্রবাহিত নরসুন্দাকে এখন আর নদী বলে মনে হয় না, দখলে-দূষণের কারনে সামান্য খাল বলে মনে নয়। বর্তমানে এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছে বিশালাকার দমপাড়া এবং মজলিশপুর গ্রাম। দুই পাড়ে দুই বাজার সাথে আরো রয়েছে দমপাড়ায় মাহতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়।
নরসুন্দার কান্না শুনতে কি পাও?
দিনে দিনে নানা অনাচারে মৃত্যুঘণ্টা বেজেই চলেছে নরসুন্দার।
নরসুন্দা তাই এখন কিশোরগঞ্জের দুঃখের কারণও। নদীটির ইতিহাস হয়ে আছে ‘জীবন্ত’ আর বর্তমান হয়ে গেছে ‘মৃত’। কোনোমতে অস্তিত্ব নিয়ে শুধুমাত্র টিকে আছে কঙ্কালসদৃশ নরসুন্দা নদীর নামটিই। আসুন নরসুন্দাকে বাঁচানোর একটা শেষ চেষ্টা করে দেখি। দল মত নির্বিশেষে আওয়াজ তুলুনঃ নরসুন্দাকে বাঁচতে দাও…