মঙ্গলবার, ২৩ Jul ২০২৪, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও বিচারপতি ভাষা সৈনিক হাবিবুর রহমান স্মরণে

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও বিচারপতি ভাষা সৈনিক হাবিবুর রহমান স্মরণে

১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ঘোষণা করেছিলেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’ পরের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরানো আর্টস বিল্ডিংয়ের আমতলায় তড়িঘড়ি করে একটা সভা করা হয়েছিল। সেই সভায় মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘শুনেছি, ফ্যাসিষ্ট ইতালিতে স্লোগান দেওয়া হতো- মুসোলিনি কোনো দিন ভুল করে না। দেখা যাচ্ছে, আমাদের দেশে অনুরূপভাবে আমাদের উপর একটা সবক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে জিন্নাহর কথাই অভ্রান্ত। তার নড়চড় হবে না।’

জিন্নাহকে ‘কায়েদে আযম’ হিসেবে উল্লেখ না করায় দু-একজন ছাত্র মারমুখো হয়েছিলেন, কিন্ত মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের গায়ে কেউ হাত তোলেন নি।
সে সময় তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিন হলের ভিপি ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করা হলে ছাত্রদের সবাই তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ফজলুল হক হলের পুকুরের পূর্ব পাড়ে যে কয়েকজন ছাত্র বৈঠক করেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। সে সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষেই মত দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃহদাংশ মনে মনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষেই ছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে আমতলায় ছাত্র সভা হচ্ছিল। পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছুড়তে পারে ভেবে শিক্ষার্থীরা রুমাল ভিজিয়ে নিচ্ছিলেন পানিতে। সভা শেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার জন্য এগিয়ে যান হাবিবুর রহমান। যাঁরা এগিয়ে এলেন, তাঁদের নাম লিখে নিচ্ছিলেন আরেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ সুলতান। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান তাঁর সাইকেলটি মোহাম্মদ সুলতানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তুই আমার পঙ্খীরাজটা দেখিস, আমি চললাম।’ ‘রাষ্টভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান দিতে দিতে আরও কয়েকজনের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লেন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তখন বেলা সোয়া ১টা। উত্তেজনায় সারা শরীর থেকে আগুনের ভাপ বের হচ্ছে। রাজপথে বের হতেই পুলিশ তাঁদের একটা ট্রাকে তুলে নিল। তারপর নিয়ে যাওয়া হলো তেজগাঁও ষ্টেশনে। ছোট্ট একটা হাজতঘরে তাকে দীর্ঘদিন বন্দি রাখা হলো। এ মহান ভাষা সৈনিককে জাতির পক্ষ থেকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

শাফায়েত জামিল রাজীব
প্রধান সম্পাদক
একুশে টাইমস্ বিডিডটকম

 

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2021
Design By Rana